অল্প কিছুদিন হল ইংল্যান্ডের এই মসজিদটায়
ইমামতি করছেন তিনি । তার বাসা থেকে মসজিদটা বেশ দূর। নামায পড়াতে প্রতিদিন
তাই বাসে করেই তাকে মসজিদে যেতে হয়। অবশ্য বাসে যেতে খুব একটা খারাপ লাগে
না তার। তবে আজকে খারাপ লাগছে। বুকের ভেতরটা কেমন যেন খচ খচ করছে। আজকে
ড্রাইভার ব্যাটা ভাড়া কেটে ভুলবশত দশসেন্ট বেশি ফেরত দিয়েছে। প্রথমে ইমাম
সাহেব খেয়াল করেন নি।তিনি ভাড়া মিটিয়ে ভাংতি টাকা নিয়ে পেছনের সিটে
এসে বসে দেখেন দশ সেন্ট বেশি দিয়েছে ড্রাইভার।
দশ সেন্ট এমন কোন বড় এমাউন্ট না। এত অল্প টাকা ফেরত দেয়ার কথা বলতেও তো কেমন জানি লাগে। ইমাম সাহেবের খারাপ লাগা শুরু হয়েছে এই দশ সেন্ট হাতে পাওয়ার পর থেকে। একবার মনে হচ্ছে, না দশ সেন্ট হক আর এক সেন্ট, বেশি টুকুন ফেরত দিয়ে দেয়া উচিত। পরক্ষনেই মনে হচ্ছে,মাত্র দশ সেন্ট, ফেরত দিতে গেলে না আবার হাসির খোরাক হয়ে যাই, থাক ফেরত দেয়া লাগবে না। ইমাম সাহেবের মাথায় যখন দশ সেন্ট নিয়ে এই ধাওয়া পালটা ধাওয়া চলছে ঠিক তখনই বাসটা ব্রেক করল, ইমাম সাহেব তার গন্তব্যে চলে এসেছেন। তিনি লক্ষ করলেন পুরোটা রাস্তা তিনি এই দশ সেন্ট নিয়েই চিন্তা করেছেন, এখন মনে হচ্ছে দশ সেন্টের কথাটা চেপে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে । তিনি বাসের সিট ছেড়ে উঠলেন , কারও সাথে কোন কথা না বলে সোজা বাসের সামনের দরজার দিকে এগোলেন, ঐ তো বাস ড্রাইভার চ্যাত ব্যাত হীন চেহারা নিয়ে বসে আছে।
দশ সেন্ট এমন কোন বড় এমাউন্ট না। এত অল্প টাকা ফেরত দেয়ার কথা বলতেও তো কেমন জানি লাগে। ইমাম সাহেবের খারাপ লাগা শুরু হয়েছে এই দশ সেন্ট হাতে পাওয়ার পর থেকে। একবার মনে হচ্ছে, না দশ সেন্ট হক আর এক সেন্ট, বেশি টুকুন ফেরত দিয়ে দেয়া উচিত। পরক্ষনেই মনে হচ্ছে,মাত্র দশ সেন্ট, ফেরত দিতে গেলে না আবার হাসির খোরাক হয়ে যাই, থাক ফেরত দেয়া লাগবে না। ইমাম সাহেবের মাথায় যখন দশ সেন্ট নিয়ে এই ধাওয়া পালটা ধাওয়া চলছে ঠিক তখনই বাসটা ব্রেক করল, ইমাম সাহেব তার গন্তব্যে চলে এসেছেন। তিনি লক্ষ করলেন পুরোটা রাস্তা তিনি এই দশ সেন্ট নিয়েই চিন্তা করেছেন, এখন মনে হচ্ছে দশ সেন্টের কথাটা চেপে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে । তিনি বাসের সিট ছেড়ে উঠলেন , কারও সাথে কোন কথা না বলে সোজা বাসের সামনের দরজার দিকে এগোলেন, ঐ তো বাস ড্রাইভার চ্যাত ব্যাত হীন চেহারা নিয়ে বসে আছে।
বাসের দরজা দিয়ে নামার ঠিক আগে কি মনে করে যেন ইমাম সাহেব ড্রাইভারের দিকে
ফিরে বললেনঃ দেখো ! তুমি আমাকে ভুলে দশ সেন্ট বেশি দিয়ে দিয়েছো।
এই কথা শুনে ড্রাইভারের চেহারার বলি রেখায় কোন পরিবর্তন আসলো না। সে ঠিক আগের মতই চ্যাত ব্যাত হীন অবস্থায় বললঃ না! আমি তোমাকে এই দশ সেন্ট ভুল করে দেই নি। আমি ইচ্ছে করেই তোমাকে এই টাকাটা বেশি দিয়েছি।
ইমাম সাহেবের ভ্রু কুঞ্জিত হল। তিনি বিস্ময় নিয়ে জিজ্ঞেস করলেনঃ কেন ? কেন তুমি ইচ্ছে করে এই দশ সেন্ট বেশি দিলে? এই প্রশ্নের উত্তরে সেই দিন চ্যত ব্যত হীন সেই ড্রাইভার যা বলেছিল তাতে অপেক্ষা করছিল ইমাম সাহেবের জন্যে এক বিস্ময় আর শিক্ষা।
সেই ড্রাইভার সেই দিন বলেছিলঃ
গত তিন বছর ধরে আমি ইসলামকে বুঝার চেষ্টা করছিলাম। আর আজকে আমি ইসলাম গ্রহনের ব্যাপারে আমার সিদ্ধান্ত নেব ভেবেছি। তুমি যখন বাসে উঠলে তোমার পোশাক দেখেই বুঝতে পেরেছিলাম যে তুমি একজন ইমাম। তাই তোমার হাতে ইচ্ছে করেই দশ সেন্ট বেশি দিয়ে দিয়েছিলাম। যদি তুমি সৎ হও আমি ইসলাম গ্রহন করব আর যদি তুমি সেই সেন্ট রেখে দাও , তাহলে বাকিদের মত তোমরাও মিথ্যাবাদি, সবাই যেমন মিথ্যে প্রচার করে তোমরাও তাই করো বলে প্রমানিত হবে। ইমাম সাহেব কি বলবে ঠিক বুঝতে পারল না। তিনি তার হাতের দশ সেন্ট ড্রাইভারকে ফেরত দিয়ে বাস থেকে নেমে এলেন।
বাসটি দ্রুত তার আগের গতিতে চলতে শুরু করল, ইমাম সাহেব তাকিয়ে আছেন। খিপ্রতার সাথে বাসটি তার চোখের সীমানা পার হয়ে যাচ্ছে। সুখের বিষয় , হয়ত আজকে বাস ড্রাইভারটা ইসলাম কবুল করবেন। কিন্তু ইমাম সাহেব খুশি হতে পারছেন না। তার গলায় কষ্ট নামক বস্তু এসে কাটার মত বিধছে... বার বার চোখ ভিজে যাচ্ছে । বার বারই মনে হচ্ছে মাত্র দশ সেন্টের বিনিময়ে আজকে আল্লাহর দ্বীনকে প্রায় বিক্রিই করে দিচ্ছিলেন তিনি। মাত্র দশ সেন্টের বিনিময়ে।
-ব্লগার দ্যা স্লেভ ভাই এর ব্লগ থেকে সংগৃহীত
এই কথা শুনে ড্রাইভারের চেহারার বলি রেখায় কোন পরিবর্তন আসলো না। সে ঠিক আগের মতই চ্যাত ব্যাত হীন অবস্থায় বললঃ না! আমি তোমাকে এই দশ সেন্ট ভুল করে দেই নি। আমি ইচ্ছে করেই তোমাকে এই টাকাটা বেশি দিয়েছি।
ইমাম সাহেবের ভ্রু কুঞ্জিত হল। তিনি বিস্ময় নিয়ে জিজ্ঞেস করলেনঃ কেন ? কেন তুমি ইচ্ছে করে এই দশ সেন্ট বেশি দিলে? এই প্রশ্নের উত্তরে সেই দিন চ্যত ব্যত হীন সেই ড্রাইভার যা বলেছিল তাতে অপেক্ষা করছিল ইমাম সাহেবের জন্যে এক বিস্ময় আর শিক্ষা।
সেই ড্রাইভার সেই দিন বলেছিলঃ
গত তিন বছর ধরে আমি ইসলামকে বুঝার চেষ্টা করছিলাম। আর আজকে আমি ইসলাম গ্রহনের ব্যাপারে আমার সিদ্ধান্ত নেব ভেবেছি। তুমি যখন বাসে উঠলে তোমার পোশাক দেখেই বুঝতে পেরেছিলাম যে তুমি একজন ইমাম। তাই তোমার হাতে ইচ্ছে করেই দশ সেন্ট বেশি দিয়ে দিয়েছিলাম। যদি তুমি সৎ হও আমি ইসলাম গ্রহন করব আর যদি তুমি সেই সেন্ট রেখে দাও , তাহলে বাকিদের মত তোমরাও মিথ্যাবাদি, সবাই যেমন মিথ্যে প্রচার করে তোমরাও তাই করো বলে প্রমানিত হবে। ইমাম সাহেব কি বলবে ঠিক বুঝতে পারল না। তিনি তার হাতের দশ সেন্ট ড্রাইভারকে ফেরত দিয়ে বাস থেকে নেমে এলেন।
বাসটি দ্রুত তার আগের গতিতে চলতে শুরু করল, ইমাম সাহেব তাকিয়ে আছেন। খিপ্রতার সাথে বাসটি তার চোখের সীমানা পার হয়ে যাচ্ছে। সুখের বিষয় , হয়ত আজকে বাস ড্রাইভারটা ইসলাম কবুল করবেন। কিন্তু ইমাম সাহেব খুশি হতে পারছেন না। তার গলায় কষ্ট নামক বস্তু এসে কাটার মত বিধছে... বার বার চোখ ভিজে যাচ্ছে । বার বারই মনে হচ্ছে মাত্র দশ সেন্টের বিনিময়ে আজকে আল্লাহর দ্বীনকে প্রায় বিক্রিই করে দিচ্ছিলেন তিনি। মাত্র দশ সেন্টের বিনিময়ে।
-ব্লগার দ্যা স্লেভ ভাই এর ব্লগ থেকে সংগৃহীত


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন