ডেস্কঃ
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অবরোধের মধ্যে গাইবান্ধায় বাসে পেট্রোল বোমা হামলায় দগ্ধ আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই মৃতের সংখ্যা ছয়জনে দাঁড়াল।
এদিকে বোমা মারার ঘটনায় শনিবার একটি মামলা হয়েছে, গ্রেপ্তার করা হয়েছে সন্দেহভাজন ৭ জনকে।
শুক্রবার রাতের এই ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ সোনাভান (৩০) নামে একজন শনিবার বিকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
সোনাভান গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চণ্ডিপুর গ্রামের তারা মিয়ার স্ত্রী। এই নাশকতায় স্ত্রীর পাশাপাশি ছেলে সুজনকেও হারিয়েছেন তারা মিয়া।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান মারুফুল ইসলাম জানান, শ্বাসনালীসহ শরীরের ৯০ ভাগ পুড়ে গেছিল সোনাভানের। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এর আগে শুক্রবার রাতে এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সোনাভানের ছেলে সুজন (১১)।
নিহত অন্যরা হলেন- গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ কালির খামার গ্রামের খয়বর হোসেনের ছেলে সৈয়দ আলী (৪২), একই উপজেলার কঞ্চিবাড়ী মধ্যপাড়া খামার গ্রামের বলরাম দাসের মেয়ে শিল্পী রাণী (১০), চণ্ডিপুর গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে সুমন (২২), পশ্চিম সীচা গ্রামের সাঈদ মিয়ার স্ত্রী হালিমা বেগম (৪০)।
সোনাভানের স্বামী তারা মিয়া ও মেয়ে তানজিনা আগুনের ক্ষত নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন।
মারুফুল বলেন, দগ্ধ আরও ১৮ জন হাসপাতালে রয়েছেন। এর মধ্যে শ্বাসনালী ও শরীরের ৯০ ভাগ পুড়ে যাওয়া রিকশাচালক সাজু মিয়া (২৫) এবং শ্বাসনালী ও শরীরের ৭৫ ভাগ পুড়ে যাওয়া দিনমজুর আবুল কালামকে (৪০) নিবিড় পর্যবেক্ষণ ইউনিটে রাখা হয়েছে।
শুক্রবার রাত ১১টার দিকে গাইবান্ধা সদর উপজেলার তুলশীঘাট পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে যাত্রীবাহী বাসটিতে পেট্রোল বোমা হামলা হয়।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সীচা থেকে ৪০/৫০ জন যাত্রী নিয়ে নাপু পরিবহনের বাসটি ঢাকায় যাচ্ছিল।
একাধিক যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাসটিতে ৪২টি আসন থাকলেও প্রায় ৫০ জনের মতো যাত্রী সুন্দরগঞ্জ সীচা থেকে রওনা হন। পরে গাইবান্ধা বাস টার্মিনালে এসে আরো ১০/১৫ জন যাত্রী বাসে উঠানো হয়। এদের একজন বিজিবি সদস্য ও দুই জন শিক্ষার্থী ছাড়া বেশির ভাগই দিনমজুর ও রিকশাচালক। তারা কাজের সন্ধানে ঢাকা যাচ্ছিলেন।
ওসি রাজিউর জানান, এই ঘটনায় সহকারী পরিদর্শক (এসআই) মাহবুবুর রহমান রহমান বাদী হয়ে সন্ত্রাস দমন ও বিস্ফোরক আইনে শনিবার একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৪০/৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ হামলায় জড়িত সন্দেহে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে ওসি জানান।
শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত, রংপুর রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি হুমায়ুন কবির, র্যাব-১৩ অধিনায়ক কর্নেল ইসমত হায়াৎ এবং বিজিবির রংপুর বিভাগীয় আঞ্চলিক কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহফুজুর রহমান।
বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত বলেন, যারা নিহত হয়েছেন তাদের প্রত্যেককে সহযোগিতা করা হবে। আপাতত আহতদের জন্য ৫ হাজার ও নিহতদের জন্য ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।
এম৩১


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন