সর্বশেষ

খালেদাকে কার্যালয় থেকে বের করতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ



বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নিজ কার্যালয় থেকে বের করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে সরকার। 
 সেই লক্ষ্যে নানা কৌশল নিয়ে এগোচ্ছেন আওয়ামী লীগ ও সরকারের নীতিনির্ধারকেরা। তারই অংশ হিসেবে গত বুধবার খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। শুনানিতে অনুপস্থিতির কারণে আদালতের এই গ্রেফতারি পরোয়ানার মাধ্যমে এক ঢিলে দুই পাখি শিকার করতে চায় সরকার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, প্রায় দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে গুলশানে নিজ রাজনৈতিক কার্যালয়ে ‘অবরুদ্ধ’ হয়ে থাকা খালেদা জিয়াকে এখনো বিপজ্জনক বলে মনে করছে আওয়ামী লীগ সরকার। গত ৫ জানুয়ারির পর বিভিন্ন কৌশলে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে অফিস থেকে বের করতে পারেনি সরকার। তাই সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে গ্রেফতারি পরোয়ানার এ সুযোগকে কাজে লাগাতে চায় সরকার।
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, গ্রেফতার এড়াতে খালেদা জিয়াকে এখন উচ্চ আদালতে জামিন চাইতে হবে। আর জামিনের জন্য তাকে অবশ্যই আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে আবেদন করতে হবে। এতে তিনি গুলশানের কার্যালয় থেকে বের হতে বাধ্য হবেন। আর আদালতে গেলে খালেদা জিয়াকে আর গুলশান কার্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হবে না। সে ক্ষেত্রে আদালত জামিন মঞ্জুর করলে তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিজ বাসায় পৌঁছে দেবে। আর জামিন মঞ্জুর না হলে তাকে কারাগারে পাঠানো হবে। এতে এক দিকে খালেদা জিয়াকে অফিস থেকে বের করা যাবে এবং অন্য দিকে সরকারকেও আর জোর-জবরদস্তি করতে হলো না, যাতে দেশ-বিদেশে সমালোচনা হতে পারে।
এ দিকে সরকারের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার গ্রেফতার নিয়ে সরকার রাজনৈতিকভাবে দায় নিতে চাচ্ছে না। এ কাজে আদালতকেই ব্যবহার করতে চান নীতিনির্ধারকেরা। সেজন্য খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হলেও এখনই তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। সরকার মূলত ৪ মার্চকে সামনে রেখে এগোচ্ছে। ওই দিন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চলমান ‘দুর্নীতি’ মামলার শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। খালেদা জিয়া যদি ৪ তারিখের মধ্যে আগাম জামিনের জন্য সশরীরে উচ্চ আদালতে উপস্থিত না হন তবে ওই দিন তাকে গুলশান অফিস থেকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে নিয়ে যাওয়া হবে। আর আদালত জামিন দিলে তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হবে। অন্য দিকে জামিন না হলে তাকে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হতে পারে। ওই কারাগারে ইতোমধ্যেই মহিলা ভিআইপি সেল ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করা হয়েছে বলে খবর বেরিয়েছে। তবে কাশিমপুর কারাগারে না নিয়ে খালেদা জিয়াকে নিজ বাসায় গৃহবন্দী করে রাখা হতে পারে বলেও জানা গেছে।
সূত্রগুলো আরো জানায়, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গুলশান কার্যালয়ে অবস্থান নেয়ায় ইতোমধ্যেই তা সরকারের জন্য বড় ধরনের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখানে অসুস্থ হয়ে পুলিশি পাহারায় দিনের পর দিন ‘অবরুদ্ধ’ হয়ে থাকলে শুধু দেশেই নয়, সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক মহলেরও চাপ বাড়বে। এতে বিএনপিসহ সরকারবিরোধীদের প্রতি জনগণের সমর্থনও বেড়ে যাবে, যা পর্যায়ক্রমে বড় ধরনের আন্দোলনে রূপ নিতে পারে। তাই বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে অবস্থানের পক্ষে নন আওয়ামী লীগ ও সরকারের নীতি নির্ধারকেরা।
আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা গত বুধবার সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে জানান, গুলশান কার্যালয়ের খালেদা জিয়া এখনো সরকারের জন্য হুমকি হয়ে আছেন। তাই তাকে বের করতে সরকার সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এবার মনে হয় সেই চেষ্টা সফল হবে। গ্রেফতার থেকে বাঁচতে চাইলে তিনি নিজেই বের হতে বাধ্য হবেন। না হলে আদালতের ওই আদেশের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ৪ তারিখ তাকে ওই অফিস থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসা হবে। এতে সরকারের দুই কূলই রক্ষা হবে।
তবে দলের অন্য একটি সূত্র জানায়, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে। চলমান আন্দোলনে যাত্রাবাড়ী ও চৌদ্দগ্রামে বাসে পেট্রলবোমা নিেেপর মামলায় তাকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে গ্রেফতারের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য। সর্বশেষ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বুধবার খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এরপরই ঢাকা সেনানিবাস থানা, গুলশান থানাসহ তিনটি থানায় এ পরোয়ানা পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। গ্রেফতারের পরিবেশ সৃষ্টির অংশ হিসেবে মাঝেমধ্যে গ্রেফতার গুজবও ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। মূলত এর মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে মাঠ যাচাই করা হচ্ছে। গ্রেফতার করা হলে জনমনে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়া, ২০ দলীয় জোটের আন্দোলনের গতিপথ ও আন্তর্জাতিক মনোভাব কী হতে পারে সেসব বিষয় নিয়েও ভাবছে সরকার। বিশেষ করে গ্রেফতার-পরবর্তী পরিস্থিতি ও তা সামাল দেয়ার বিষয়ে নিবিড় পর্যালোচনা ও পর্যবেণও চলছে সরকারি মহলে। পরিবেশ অনুকূল মনে হলেই গ্রেফতারের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে। এতে আদালতের পরোয়ানাকেই সর্বশেষ উপায় হিসেবে বেছে নেয়া হতে পারে।
Mt

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

prottoy news24 | Distributed By pnbd24.com | Designed By pnbd24.com

rusm থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.