সর্বশেষ

মুমিন জীবনে তাকওয়া -শেষ পর্ব


৭. আল্লাহ মুত্তাকীদের সাথী



وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ [سورة البقرة (২) : آية ১৯৪]

অর্থাৎ আল্লাহকে ভয় করো, আর জেনে রাখো আল্লাহ তাদের সাথে আছেন যারা

মুত্তাকী।(সূরা আল বাকারাহ-১৯৪)

৮. আল্লাহর ভালবাসা লাভ

অর্থাৎ নিশ্চই আল্লাহ মুত্তাকীদেরকে ভালবাসেন৷ (সূরা আত তাওবাহ-৭) 

তাকওয়ার (التَّقْوَى ) দাবি

১. শিরক ও বিদ্আত মুক্ত ইবাদাত করা

إِنَّ اللَّهَ لاَ يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذلِكَ لِمَنْ يَشاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرى إِثْماً عَظِيماً (৪৮) [سورة النساء

অর্থাৎ আল্লাহ অবশ্যই শিরককে মাফ করেন না৷ এ ছাড়া অন্যান্য যত গুনাহ হোক না কেন

তিনি যাকে ই”ছা মাফ করে দেন৷ যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরীক করেছে সেতো

এক বিরাট মিথ্যা রচনা করেছে এবং কঠিন গুনাহের কাজ করেছে৷(সূরা আন নিসা-৪৮)     

إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْواهُ النَّارُ وَما لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصارٍ (৭২) [سورة المائدة (৫) : آية ৭২]

অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করে তার উপর আল্লাহ জান্নাত হারাম করে দেন

এবং তার আবাস জাহান্নাম ৷ আর এ ধরনের জালিমদের কোন সাহায্যকারী নেই৷(সূরা আল

মায়েদাহ-৭২) 

অর্থাৎ সর্বোত্তম বাণী হলো আল্লাহর বাণী আর সর্বোত্তম পথ হলো মোহাম্মদ (স.) এর

দেখানো পথ। সবচেয়ে খারাপ কাজ হলো শরিয়তে নতুন কোন বিষয় উদ্ভাবন করা (বিদয়াত),

আর সকল বিদয়াতই হলো পথভ্রষ্টতা।(সহীহ মুসলিম)

১. গুনাহ (الذُّنُوب) থেকে বেঁচে থাকা

অর্থাৎ তোমরা যদি বড় বড় গুনাহ থেকে দূরে থাকো, যা থেকে দূরে থাকার জন্য তোমাদের বলা

হ”েছ, তাহলে তোমাদের ছোট-খাটো খারাপ কাজগুলো আমি তোমাদের হিসেব থেকে বাদ

দিয়ে দেবো  এবং তোমাদের সম্মান ও মর্যাদার জায়গায় প্রবেশ করিয়ে দেবো। (সূরা আন

নিসা-৩১)

وَلِلَّهِ ما فِي السَّماواتِ وَما فِي الْأَرْضِ لِيَجْزِيَ الَّذِينَ أَساؤُا بِما عَمِلُوا وَيَجْزِيَ الَّذِينَ أَحْسَنُوا بِالْحُسْنَى (৩১) الَّذِينَ يَجْتَنِبُونَ

كَبائِرَ الْإِثْمِ وَالْفَواحِشَ إِلاَّ اللَّمَمَ إِنَّ رَبَّكَ واسِعُ الْمَغْفِرَةِ هُوَ أَعْلَمُ بِكُمْ إِذْ أَنْشَأَكُمْ مِنَ الْأَرْضِ وَإِذْ أَنْتُمْ أَجِنَّةٌ فِي بُطُونِ أُمَّهاتِكُمْ

(৩১) যমীন ও আসমানের প্রতিটি জিনিসের মালিক একমাত্র আল্লাহ -যাতে  আল্লাহ

অন্যায়কারীদেরকে তাদের কাজের প্রতিদান দেন এবং যারা ভাল নীতি ও আচরণ গ্রহণ করেছে

তাদের উত্তম প্রতিদান দিয়ে পুরস্কৃত করেন। (৩২) যারা বড় বড় গুনাহ  এবং প্রকাশ্য ও

সর্বজনবিদিত অশ্লীল কাজ থেকে বিরত থাকে তবে ছোটখাট ক্রুটি-বিচ্যুতি হওয়া

ভিন্ন কথা নিশ্চয়ই তোমার রবের ক্ষমাশীলতা অনেক ব্যাপক৷ যখন তিনি মাটি থেকে

তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন৷ এবং যখন তোমরা মাতৃগর্ভে ভ্রূণ আকারে ছিলে তখন

থেকে তিনি তোমাদের জানেন৷ অতএব তোমরা নিজেদের পবিত্রতার দাবী করো না৷ সত্যিকার

মুত্তাকী কে তা তিনিই ভাল জানেন৷ (সূরা আন নাজ্ম- ৩১,৩২)

কবীরা (الكَبِيرَةُ)গুনাহ-এর কিছু উদাহরণ

শিরক করা, ধর্ম ত্যাগ করা, চুরি করা, অন্যায় ভাবে হত্যা, মিথ্যা শপথ করা, মিথ্যা কথা বলা,

মিথ্যা স্বাক্ষ্য দেওয়া, পিতা ও মাতার অবাধ্য হওয়া, অপবাদ দেয়া ইত্যাদি

সগীরা (الصَّغِيرَة)গুনাহ-এর কিছু উদাহরণ

إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِينَ [سورة التوبة (৯) : آية ৭]

(৪) : آية ৪৮]

إِنَّ خَيْرَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللهِ، وَخَيْرُ الْهُدَى هُدَى مُحَمَّدٍ، وَشَرُّ الْأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا، وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ صحيح مسلم

إِنْ تَجْتَنِبُوا كَبائِرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنْكُمْ سَيِّئاتِكُمْ وَنُدْخِلْكُمْ مُدْخَلاً كَرِيماً (৩১) [سورة النساء (৪) : آية ৩১]

فَلا تُزَكُّوا أَنْفُسَكُمْ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اتَّقى (৩২) [سورة النجم (৫৩) : الآيات ৩১ الى ৩২]

৮

ঝগড়া করা, মেয়েদের সাথে মুসাফা করা, করো সাথে তিন দিনের বেশী কথা না বলা,

মেয়েদের দিকে তাকানো ইত্যাদি

সগীরা (الصَّغِيرَة)গুনাহ কবীরা হওয়ার কারণসমূহ

ক.সর্বদা করতে থাকা খ. অবহেলা করা গ.ছোট মনে করা ঘ. আনন্দের সাথে করা

লিবাসুত তাকওয়া (لِبَاسُ التَّقْوَى):

  وَرِيشاً سَوْآتِكُمْ يُوارِي لِباساً عَلَيْكُمْ أَنْزَلْنا قَدْ آدَمَ بَنِييا التَّقْوىوَلِباسُ ( يَذَّكَّرُونَ لَعَلَّهُمْ اللَّهِ آياتِ مِنْ ذلِكَ خَيْرٌ ذلِكَ২৬ )

অর্থাৎ হে বনী আদম! তোমাদের শরীরের লজ্জা¯’ানগুলো ঢাকার এবং তোমাদের দেহের সংরক্ষণ ও

সৌন্দর্য বিধানের উদ্দেশ্যে আমি তোমাদের জন্য পোশাক নাযিল করেছি৷ আর তাকওয়ার

পোশাকই সর্বোত্তম৷ এটাই আল্লাহর নিদর্শনগুলোর অন্যতম, সম্ভবত লোকেরা এ থেকে শিক্ষা

গ্রহণ করবে৷(সূরা আল আরাফ- ২৬)

লিবাসুত তাকওয়া (لِبَاسُ التَّقْوَى)-এর ব্যাপারে মুফাসসিরীন-কেরাম এর মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে,

১. হযরত ওসমান (রা:) বলেন, السمت الحسن (উত্তম আচরণ বা চরিত্র)

২. হযরত আব্দুল্লাহ ইব্ন আব্বাস (রা:) বলেন, العمل الصالح  (সৎকাজ)

৩. উরওয়া ইব্ন জুবায়ের (রা:) বলেন, خشية الله (আল্লাহর ভয়)

৪. বিশিষ্ট তাবেয়ী হযরত কাতাদা (রা:) বলেন, الإيمان (ঈমান)

৫. ইব্ন যায়েদ (রা:) বলেন, ستر العورة للصلاة  (নামাজের পোশাক)

৬. কোন কোন মোফাসসিরীনে কেরামের মতে الحياء (লজ্জা)

(তাফসীর আত-তবারী)

ধন্যবাদ।এতদিন আমাদের সাথে থেকে নিয়মিত এক্সক্লুসিভ লেখাটি পড়ার জন্য ।নিয়মিত বিখ্যাত লেখকদের লেখা পড়ার জন্য আমাদের সাথে থাকুন

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

prottoy news24 | Distributed By pnbd24.com | Designed By pnbd24.com

rusm থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.