সর্বশেষ

সংকট নিরসনে আলোচনার জন্য কমিটি গঠন।

দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে জাতীয় ঐক্য তৈরির লক্ষ্যে সংলাপের উদ্যোগ নিতে কমিটি গঠন করতে যাচ্ছে নাগরিক সমাজ। সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ টি এম শামসুল হুদাকে কমিটির আহ্বায়ক করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কোনো ব্যক্তিকে এই উদ্যোগের সঙ্গে রাখা হবে না। শিক্ষাবিদ, অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, সাবেক আমলাসহ বিশিষ্ট নাগরিকদের সমন্বয়ে কমিটি করা হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত নাগরিক সমাজের বৈঠকে এসব বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে নাগরিক সমাজ।
বৈঠকসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, বৈঠকে শামসুল হুদাকে নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক করার প্রস্তাব এলে অন্যরা তা সমর্থন করেন। এ ছাড়া কমিটির সম্ভাব্য সদস্য কারা হতে পারেন, তা নিয়ে আলোচনা হয়। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বিতর্ক এড়াতে এবং সমাজের সকল স্তরে নাগরিক সমাজের এই উদ্যোগ যাতে গ্রহণযোগ্যতা পায়, সে জন্য কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে কমিটিতে না রাখার সিদ্ধান্ত হয়।
রাজধানীর মহাখালীর একটি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে এ টি এম শামসুল হুদা, আকবর আলি খান, এম হাফিজউদ্দিন খান, সি এম শফি সামি, বদিউল আলম মজুমদার, সৈয়দ আবুল মকসুদ, আহসান এইচ মনসুর, রোকিয়া আফজাল রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারে উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান প্রথম আলোকে বলেন, দেশে যে সহিংসতা চলছে, যেভাবে মানুষ পুড়িয়ে মারা হচ্ছে, তা অব্যাহতভাবে চলতে পারে না। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এবং অর্থনীতির চাকা সচল রাখার স্বার্থে নাগরিক সমাজ এই উদ্যোগ নিচ্ছে। নাগরিক সমাজ কী করতে চায়, তাঁদের সঙ্গে কে কে থাকবেন, সে বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।
এর আগে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি সংলাপের উদ্যোগ নিতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়। তাতে বলা হয়, দেশে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মানুষ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যেতে চায়। তাই শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরাজমান সমস্যার সমাধান করতে হবে। যাতে নারী-শিশুসহ সবাই অস্বাভাবিক মৃত্যু ও জ্বালানো-পোড়ানোর হাত থেকে রক্ষা পায় এবং শিক্ষার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আসে।
চিঠিতে বলা হয়, চলামান সহিংসতা জাতীয় অর্থনীতি ও জনজীবনকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে। পরিবহনব্যবস্থার দুর্গতির কারণে গ্রামের কৃষক অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দারিদ্র্যবিমোচনের ক্ষেত্রে যেসব অগ্রগতি হয়েছে, তা নিচের দিকে নেমে যাওয়ার হুমকিতে পড়েছে। রপ্তানি খাত বিপর্যয়ের মুখে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।
চিঠিতে বলা হয়, এ সমস্যার মূল কারণ সরকার ও তাদের প্রতিপক্ষের মধ্যকার রাজনৈতিক বিরোধ। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও উৎপাদনব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে এই বিরোধের অবসান হওয়া অপরিহার্য। এ অবস্থায় সংকট নিরসনে সংলাপের উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান এবং রাষ্ট্রপতিকে ভূমিকা রাখতে অনুরোধ করে নাগরিক সমাজ।
MT

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

prottoy news24 | Distributed By pnbd24.com | Designed By pnbd24.com

rusm থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.