সর্বশেষ

বিশ্বের শীর্ষ চার প্রতিবেদনে বাংলাদেশ তলানিতে

নামে ডিজিটাল বাংলাদেশ হলেও বিশ্বের শীর্ষ চারটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন সূচক, ইন্টারনেটের গতি ও ব্যবহারে বাংলাদেশের অবস্থান তলানিতে এসে ঠেকেছে। সর্বশেষ আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) প্রতিবেদন অনুযায়ী তথ্যপ্রযুক্তি উন্নয়ন সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় সবার পেছনে রয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইন্টারনেট ব্রডব্যান্ড কমিশন এবং ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরীক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান ওকলার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনেও এখাতে বাংলাদেশ সবার পেছনে অবস্থান করছে।

তথ্যপ্রযুক্তি উন্নয়ন সূচকে পেছনে বাংলাদেশঃ আইটিইউ

আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তি উন্নয়ন সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় সবার পেছনে অবস্থান করছে। ২০১৪ সালে আইটিইউ-এর ‘তথ্য সমাজ পরিমাপ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ‘তথ্যপ্রযুক্তি উন্নয়ন সূচকে’ বিশ্বের ১৬৬ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৫তম। ২৭০ পেজের প্রতিবেদনে ৩৬টি স্থানে বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন তথ্য বিবেচনা করা হয় সূচক তৈরিতে। সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি দেখা যাবে হত্তপঃ//গো।গ্ল/ন৬প৯আদ এই ঠিকানায়। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ২০১২ সালের তুলনায় ২০১৩ সালে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন মানদণ্ডে উন্নতি করায় ২০১৪ সালে এক ধাপ অগ্রগতি হয়েছে বাংলাদেশের। ফলে বাংলাদেশ একধাপ এগিয়ে এখন ১৪৫ তম স্থানে উঠে এসেছে। তবে ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষে তথ্যপ্রযুক্তিতে এগিয়ে চললেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এখনও উন্নতি হয়নি। তথ্যপ্রযুক্তিতে আগের মতোই এ অঞ্চলে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে শ্রীলংকা, যদিও ২০১৩ সালে আগের বছরের তুলনায় তিন ধাপ পিছিয়েছে দেশটি। আগেরবারের ১১৩তম অবস্থান থেকে এবার ১১৬ নম্বরে নেমে গেছে। এর পরেই রয়েছে ভুটান। দেশটি তিন ধাপ এগিয়ে ১২৩ নম্বরে উঠে এসেছে। ভারত আগের মতোই রয়েছে ১২৯ নম্বরে। নেপাল তিন ধাপ এগিয়ে এসেছে ১৩১ নম্বরে। আর পাকিস্তান এক ধাপ পিছিয়ে চলে গেছে ১৪২ নম্বরে। এবার তালিকার শীর্ষস্থানেও এসেছে পরিবর্তন। অনেক দিন থেকে এক নম্বর অবস্থানে ছিল দক্ষিণ কোরিয়া। এবার দেশটিকে পেছনে ফেলে গতবার দ্বিতীয় স্থানে থাকা ডেনমার্ক শীর্ষে উঠে এসেছে। দেশটির স্কোর ৮ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট। আর ৮ দশমিক ৮৫ স্কোর নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে। আগের মতোই তিন এবং চার নম্বরে আছে সুইডেন এবং আইসল্যান্ড। সাত থেকে পাঁচে উঠে এসেছে যুক্তরাজ্য। আগের মতোই ছয় নম্বরে আছে নরওয়ে। আর পাঁচ থেকে সাতে চলে গেছে ন্যাদারল্যান্ডস। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে হংকং আছে নয়ে এবং জাপান আছে ১১ নম্বরে।

তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলাদেশ পিছিয়ে বাংলাদেশঃ এডিবি

এদিকে গত বছর আগস্টে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) একটি প্রতিবেদনে এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ২৮ দেশের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এই দেশগুলোর মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে শুধু কম্বোডিয়া ও মিয়ানমার। শিক্ষায় পাকিস্তান, নেপাল ও কম্বোডিয়ার চেয়ে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। উদ্ভাবনে মিয়ানমার ছাড়া সব দেশের চেয়েই বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে। ফলে সার্বিকভাবে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান ২৭তম। এর নিচে রয়েছে শুধু মিয়ানমার। এডিবির ওই প্রতিবেদন অনুসারে শিক্ষায় দক্ষিণ কোরিয়া, উদ্ভাবনে সিঙ্গাপুর এবং তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রথম অবস্থানে রয়েছে চীন। সার্বিকভাবে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে এশিয়ার শীর্ষে চীন, এরপর হংকং আর তৃতীয় স্থানে জাপানের অবস্থান। এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ২৭তম। এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গড় মান ৪ দশমিক ৩৯। বাংলাদেশের মান ১ দশমিক ৪৯। বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে শুধু মিয়ানমার। শ্রীলঙ্কার ১৮তম, ভারতের ২২তম, পাকিস্তানের ২৩তম এবং নেপালের অবস্থান ২৬তম। তথ্যপ্রযুক্তি উপসূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ২৬তম। এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর গড় মান যেখানে ১০-এর মধ্যে ৪ দশমিক ২৮, বাংলাদেশের মান সেখানে ১ দশমিক শূন্য ১। বাংলাদেশের নিচে ২৭তম অবস্থানে থাকা কম্বোডিয়ার মান দশমিক ৭৪।

ইন্টারনেট ব্যবহারে পিছিয়ে বাংলাদেশঃ ব্রডব্যান্ড কমিশন

অন্যদিকে গত জানুয়ারি মাসে ব্রডব্যান্ড কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে শুধু আফগানিস্তানই ইন্টারনেট ব্যবহারে বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। কারণ বাংলাদেশে মাত্র ৪ দশমিক ৬ শতাংশ গৃহে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে গৃহভিত্তিক হিসাবে ইন্টারনেট ব্যবহারে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ভুটান। দেশটির ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ গৃহে ইন্টারনেট ব্যবহার হচ্ছে। এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের মধ্যে ভারতে ১৩ শতাংশ, শ্রীলংকায় ১২ দশমিক ৭, পাকিস্তানে ৮ দশমিক ৩ ও নেপালে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ গৃহ ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে। আর বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে থাকা আফগানিস্তানে ইন্টারনেট ব্যবহার হচ্ছে ২ দশমিক ১ শতাংশ গৃহে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যক্তিপর্যায়ে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের ঘনত্ব দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশে, যা আগের বছর ছিল ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে এ ঘনত্ব বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থান ২০তম। ২৯ শতাংশ ব্যবহারকারী নিয়ে ভুটানের অবস্থান এ তালিকায় দ্বিতীয় ও ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ নিয়ে নেপাল রয়েছে ১২তম অবস্থানে। ফিক্সড ব্রডব্যান্ড ব্যবহারের ঘনত্ব বিবেচনায় বিশ্বের ১৯০টি দেশের একটি তালিকা করেছে ব্রডব্যান্ড কমিশন। এ তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৬তম। বাংলাদেশে প্রতি হাজারে মাত্র ছয়জন ফিক্সড ব্রডব্যান্ড সংযোগ ব্যবহার করেন। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান তালিকার ১২৮তম স্থানে।

ইন্টারনেট গতিতেও পিছিয়ে বাংলাদেশঃ ওকলা

ইন্টারনেটে ডাউনলোডের গতির দিক থেকেও পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বের ১৯৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ এক্ষেত্রে ১২১তম স্থানে রয়েছে। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরীক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান ওকলার সাম্প্রতিক নেট ইনডেক্সে এ তথ্য জানিয়েছে। ওকলার নেট ইনডেক্স অনুযায়ী, প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কেবল পাকিস্তানের (১৭২তম) চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। ডাউনলোডের গতির হিসাবে বাংলাদেশের চেয়ে ভারত, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার ও শ্রীলংকা এগিয়ে রয়েছে। ওকলার তথ্য অনুযায়ী, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে হাউসহোল্ড ডাউনলোড স্পিড ৬.৮ এমবিপিএস। মোবাইলে হাউসহোল্ড ডাউনলোড স্পিড ২.৪। রাজধানী ঢাকায় ডাউনলোড গতি দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম। বাংলাদেশসহ বিশ্বের সার্বিক ইন্টারনেট ডাউনলোড স্পিড সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে হত্তপঃ//উউউঁএতিন্দেক্স।চম/ দৌনলয়াদ/আল্লচৌন্ত্রিয়েস/ এ ঠিকানায়। এবং আপলোড স্পিড সম্পর্কে জানা যাবে হত্তপঃ//উউউঁএতিন্দেক্স।চম/উপ্লয়াদ/আল্লচৌন্ত্রিয়েস/ এ ঠিকানায়। তবে সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব ফাউন্ডেশনের সর্বশেষ ওয়েবের প্রতিবেদনে দেখা গেছে ইন্টারনেট স্বাধীনতায় বাংলাদেশের ৬৩তম স্থান অধিকার করেছে। ওই চিত্রে আরও দেখা গেছে, ইন্টারনেট স্বাধীনতায় বাংলাদেশ পাকিস্তানের চেয়ে ১৩ ধাপ এগিয়ে রয়েছে। বিশ্বের ৮৬টি দেশের ইন্টারনেট সংযোগ ও স্বাধীনতা নিয়ে প্রকাশিত ওয়েব ইনডেক্সটির শিরোনাম দ্য ওয়েব অ্যান্ড রাইজিং গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের অবস্থান ৪৮তম স্থানে। অন্যদিকে পাকিস্তান রয়েছে ৭৬তম স্থানে। মোট ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে ৮৬টি দেশকে বিচার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশ পেয়েছে ২৮ নম্বর। আর পাকিস্তান ১৭.৭৬ নম্বর। তবে সৌদি আরব রয়েছে ঠিক বাংলাদেশের পরেই। দেশটি পেয়েছে ২৭.৭২ নম্বর। নেপাল ২৩.৯৫ নম্বর পেয়ে রয়েছে ৬৯তম স্থানে। ইনডেক্সের নিচের দিকে রয়েছে ইয়েমেন, মিয়ানমার ও ইথিওপিয়া। শূন্য পেয়েছে ইথিওপিয়া।



এন১১

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

prottoy news24 | Distributed By pnbd24.com | Designed By pnbd24.com

rusm থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.