বিএনপি জোটের অবরোধ-হরতালে নাশকতার মধ্যে চট্টগ্রাম নগরীতে হাতবোমায় নিহত হয়েছেন একজন পথচারী।
চাঁন্দগাও থানার সিএন্ডবি এলাকায় বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে হাতবোমায় আহত
হলে মো. রিদওয়ান (৫০) নামে ওই ব্যক্তিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে
নেওয়া হয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার মৃত্যু
হয় বলে হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই পংকজ বড়ুয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর
ডটকমকে জানিয়েছেন।
রিদওয়ান সিএন্ডবি মোড় এলাকায় বাসের জন্য দাঁড়িয়ে
ছিলেন। ওই সময় অবরোধ সমর্থকরা হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটালে তিনি আহত হন বলে
পুলিশ জানিয়েছে।
হাতবোমায় রিদওয়ানের হাত ও পায়ে জখম হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
রিদওয়ান পুরাতন চাঁন্দগাও এলাকার পেয়ার মো. সওদাগর বাড়ির বাসিন্দা। তিনি জমি কেনা-বেচায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতেন।
চাঁন্দগাও
থানার এসআই সজল কান্তি দে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সিঅ্যান্ডবি
এলাকায় হাতবোমা বিস্ফোরণের পর পুলিশের একটি দল জড়িতদের সন্ধানে আশপাশে
তল্লাশি চালাচ্ছে।
তবে রাত ১০টা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
গত
৫ জানুয়ারি থেকে ২০ দলের লাগাতার অবরোধ-হরতালে নাশকতায় একশ জনেরও বেশি
মানুষ মারা গেছেন। এদের বেশির ভাগের মৃত্যুর কারণ গাড়িতে অগ্নিসংযোগ,
পেট্রোল বোমা ও হাতবোমা।
এদিকে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল সংলগ্ন সড়কে রাত ৮টার দিকে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম
মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর) শরিফুল ইসলাম বিডিনিউজ
টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বাস টার্মিনালের বাইরে স্বাধীনতা পার্কের সামনে
দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।
“আশেপাশে থাকা পুলিশ সদস্য ও স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে কেউ হতাহত হয়নি। জড়িতদের আটকে অভিযান চলছে।”
রাত সাড়ে ৮টার দিকে ইপিজেড থানা সংলগ্ন আনসার ক্যাম্পের কাছে বন্দরের একটি খালি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের আনসারদের আনা-নেয়ার কাজে ব্যবহৃত হত বাসটি।
বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে বাসটির আগুন নেভায়।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন