সর্বশেষ

অবৈধ সরকারের বৈধতা চায় সরকার


অদৃশ্য তারকাটাঃ ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি যে নির্বাচন হয়েছিল নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মতে  তা একটি পাতানো নির্বাচন। অর্থাৎ ফলাফল আগে থেকেই ঠিক করে রাখা আর লোক দেখনো ভোট-ভোটার খেলা করা। তাহলে বলা যায়, সেই সরকারটি একটি অবৈধ সরকার। কোনও বড় রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় জাতীয় পার্টির সাথে আঁতাত করে রওশন এরশাদকে বিরোধীদলীয় নেত্রী বানায় সরকার। যে নেত্রীর কোনও জন সমর্থন নেই। অর্থাৎ সরকার অবৈধ হলে বিরোধীদলও অবৈধ। জাতীয় পার্টির নেতা-নেত্রীদের বিভিন্ন সময়ে দেয়া বিতর্কিত বক্তব্যের কারণে জনগণ আজ তাদের আর বিশ্বাস করে না। বরং তাদের বক্তব্যকে বিনোদন হিসেবে গ্রহণ করে। যার ফলে এক সময়কার রাষ্ট্র পরিচালনাকারী দল আজকে তৃতীয় সারির একটি দলে পরিণত হয়েছে। এই অবৈধ সরকার ও অবৈধ বিরোধীদলকে দেশের মানুষ কখনও মেনে নেয়নি। মূলত, এ কারনেই এই অবৈধ সরকারের পতন কার্যকর করার জন্যই ২০দলীয় জোট গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথ বেঁছে নিয়েছে।
এই সরকার তাদের আগের মেয়াদকালে আন্দোলন দমনের নামে ২০১২ সালের ৫ই নভেম্বর থেকে ২০দলীয়জোটের (তখন ১৮দলীয় জোট ছিল) নেতা-কর্মীদের উপর জুলুম নির্যাতন শুরু করে। যেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছিল তাদের মূল হাতিয়ার। তারা ভেবেছিল বিরোধীদলকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলবে। তারা তা পারেনি আর পারবেও না। কারন, জুলুম নির্যাতন করে কখনও গণমুখী আন্দোলনকে দমানো যায়নি।
২০১৩ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি তথাকথিত মানবতা বিরোধী ও যুদ্ধপরাধী অপরাধে অভিযুক্ত আল্লামা দেলোয়ার হোনাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে রায়েকে কেন্দ্র করে প্রায় দুইশতাধিক প্রতিবাদী ধর্মপ্রান নিরীহ মানুষকে হত্যা করে। এছাড়া বিভিন্ন সময় তারা নিজেরা নিজেদের নেতা-কর্মীদের হত্যা করে বিরোধীদলের উপর চাপিয়ে দিয়েছে। সর্বশেষ চলমান অবরোধে ৫৮ দিনে ১১৪ জন মানুষ আওয়ামী প্রতিহিংসার শিকার হয়ে নিহত হয়েছে আর সহস্রাধিক মানুষ হয়েছে পঙ্গু অথবা অন্ধ। সব কিছুর মত ধৈর্য্য ও সহ্যের একটা সীমা রয়েছে। শান্তিকামী জনগণ এখন রাজপথে নেমে পড়েছে। কিছু দিন আগেও সংলাপ করবেনা বলে অনেক বড় বড় কথা বলেছে আওয়ামী নেতারা। খালেদা জিয়াকে বলেছে জঙ্গি নেত্রী। কিন্তু এখন লজ্জায় সরাসরি সংলাপে বসার কথা বলতে পারতেছেনা। সরাসরি সংলাপের প্রস্তাব দিলে তাদের দুর্বলতা প্রকাশ পেয়ে যাবে। তাই বিভিন্ন দেশের ১০ জন কূটনীতিককে পাঠানো হয়েছিল খালেদার গুলশান কার্যালয়ে।  তাদের ভাষ্য মতে, সরকার আলোচনায় বসতে রাজী। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনেও তারা রাজী। কিন্তু মজার ব্যাপার হল, তারা যে বৈধ তা প্রমাণের জন্য ২০১৯ সালে নির্বাচন করবে। মানে, বিচার মানি তাল গাছ আমার।
মানুষ এখন সচেতন, তাদেরকে আর ধোঁকা দেওয়া যাবে না।    
[ লেখাটি লেখকের নিজস্ব মতামত, এর জন্য সম্পাদক দায়ী নয়] 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

prottoy news24 | Distributed By pnbd24.com | Designed By pnbd24.com

rusm থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.