গণদাবি মেনে না নিলে আগামী ১ মার্চ রবিবার থেকে দেশব্যাপী আবারো হরতালসহ
কঠোর কর্মসূচি দেয়ার হুমকি দিয়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট।
বৃহস্পতিবার বিএনপি ও ২০-দলীয় জোটের পক্ষে এক বিবৃতিতে বিএনপির
যুগ্ম-মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ এ হুমকি দেন। তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা
বাহিনীর বন্দুকের নল ও দলকানা কতিপয় প্রচার মাধ্যম নির্ভর সরকার এখন পতনের
শেষ সিঁড়িতে দাঁড়িতে আছে। জনগণ এখন সরকার পতনের ক্ষণ গণনা শুরু করেছে।’
বিএনপি মুখপাত্র বলেন, ‘পুলিশ বাহিনীকে ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের দৈত্যে পরিণত করে
সরকার নিজেকে আপাত নিরাপদ মনে করলেও যেকোনো মুহূর্তে বন্দুকের নল ঘুরে
যেতে পারে। রাষ্ট্রশক্তির চূড়ান্ত নৈরাজ্যের বিপরীতে জাগ্রত গণশক্তির বিজয়
আসন্ন।’ তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বুধবার সংসদে অতিশয় দম্ভ সহকারে বলেছেন-
জনগণ বিএনপির সঙ্গে নেই এবং ২০ দলের ৭ দফা ব্যক্তিস্বার্থের দাবি। জনগণ
যদি আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকে তাহলে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনকে ভয় পান কেন?
জনগণকে ভয় পান কেন? নির্বাচন দিন, প্রমাণ হয়ে যাবে জনগণ কাদের সঙ্গে আছে।’
সালাহউদ্দিন দাবি করেন, ‘৭ দফা দাবির প্রত্যেকটি দাবি গণতন্ত্রের জন্য,
গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিকিকরণের জন্য, নির্বাচন
কমিশনসহ সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহের নিরপেক্ষতার জন্য, বাক-ব্যক্তি
স্বাধীনতা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণের জন্য এবং প্রিয়
মাতৃভুমিকে সমৃদ্ধ ও উন্নত গণতন্ত্রের দেশে পরিণত করার গণদাবির প্রতিফলন
মাত্র।’ তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করেন না বলে
প্রায়শই ঘোষণা দিয়ে থাকেন। তাহলে এত গণহত্যা চালিয়ে লুণ্ঠনকৃত মসনদ রক্ষ
করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন কেন?’ বিএনপি মুখপাত্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন,
‘জনগণের ওপর আস্থা হারিয়ে, দেশের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ ও নাগরিক সমাজকে
অবজ্ঞা করে এবং সারা বিশ্বকে অস্বীকার করে ফ্যাসিবাদী একদলীয় রাষ্ট্র
ব্যবস্থা কায়েমের স্বপ্ন কখনোই পূরণ হবে না। এদেশের জনগণ তা কখনোই হতে দেবে
না।’ তিনি বলেন, ‘অবশেষে অনেক বিলম্বে হলেও গণমাধ্যমে সরকারি নগ্ন
হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগ প্রকাশকে আমরা স্বাগত জানাই।
সংবাদপত্রসহ সকল গণমাধ্যমকে আমরা সরকারি অবৈধ হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে রুখে
দাঁড়িয়ে জাতীয় জীবনের এই ক্রান্তিলগ্নে গণতন্ত্র মুক্তির লড়াইয়ে শরিক হওয়ার
উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি।’ সালাহউদ্দিন বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া
নিজে এবং তার নেতৃত্বে গণতন্ত্র মুক্তির আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ জনতা যেকোনো
ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত রয়েছেন। গ্রেপ্তার-নির্যাতন, মামলা-হামলার ভয়-ভীতি
প্রদর্শন করে চলমান গণআন্দোলনকে স্তব্ধ করা যাবে না, বরং আন্দোলনের গতি
তীব্র থেকে তীব্রতর হবে।’ তিনি বলেন, জোটের উদ্যোগে চলমান শান্তিপূর্ণ
অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। গণদাবি মেনে না নিতে অনড় অবস্থানে থাকলে
আমরা আবারো আগামী ১ মার্চ রবিবার থেকে দেশব্যাপী হরতালসহ কঠোর কর্মসূচি
দিতে বাধ্য হবো।’ বিএনপি মুখপাত্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘গণদাবিকে
পাশ কাটিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা নিরঙ্কুশ রাখতে সকল স্বৈরাচারই ব্যর্থ হয়েছে এবং
এটাই ইতিহাস। জনতার দুর্বার আন্দোলনে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের অবৈধ
ক্ষমতার মসনদ ভেঙ্গে খান খান হয়ে যাবে। জনতার বিজয় অতি আসন্ন।’
N11
N11


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন