
টানা এক মাসের বেশি অবরোধ-হরতাল চালিয়ে বিক্ষোভের
ডাক দেওয়ার পর বিএনপি নেতাকর্মীরা মাঠে না নামায় খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব নিয়ে
প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগ নেতা হাছান মাহমুদ।
বিএনপি চেয়ারপারসনের পদ থেকে খালেদা জিয়ার পদত্যাগের দাবিতে ‘আসল
বিএনপির’ মুখপাত্র কামরুল হাসান নাসিম সোমবার সোয়া তিন ঘণ্টা হরতালের ডাক
দেওয়ার পর একথা বললেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান।
শনিবার
জাতীয় প্রেসক্লাবে স্বাধীনতা পরিষদের আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “বিক্ষোভ
কর্মসূচির ডাক দিয়ে ঢাকায় ১০ জন লোকও জড়ো করতে পারেননি খালেদা জিয়া।”
এ ‘ব্যর্থতার’ দায় নিয়ে বিএনপি চেয়ারপরসন ও ২০ দলীয় জোট নেত্রীর পদ থেকে খালেদা জিয়াকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান হাছান মাহমুদ।
“বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের প্রধান সমস্যা খালেদা জিয়া। খালেদাকে ছাড়লেই বিএনপি মানুষের কাছে যেতে পারবে,” বলেন তিনি।
রাজনৈতিক
অস্থিরতা নিরসনে ‘উদ্বিগ্ন নাগরিকদের’ পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির
প্রতি সংলাপে বসার যে আহ্বান জানানো হয়েছে তারও সমালোচনা করেছেন হাছান
মাহমুদ।
তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “দয়া করে সংলাপের কথা বলবেন না।
আপনারা বিএনপির সঙ্গে সংলাপের কথা বলে তাদের সন্ত্রাসে উৎসাহ যোগাচ্ছেন।
বরং বিএনপির এই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন। ২০১৯ সালের আগে মান্না
সাহেবদের আশা পূরণ হবে না।”
একই সভায় সংলাপের আহ্বান জানানো নাগরিক
সমাজের একাংশের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীকে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন
খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “একটা শ্রেণি যে কোনো মূল্যে
ক্ষমতা দখল করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। তারা উস্কানির মাধ্যমে সেনাবাহিনী
দিয়ে ক্ষমতা দখল করতে চায়। তারা জানে না বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী কারো অবৈধ
ক্ষমতা দখল করার সুযোগ নেই।”
‘সেনাবাহিনীও এখন আগের মতো নেই, তারা
এখন দেশপ্রেমিক’ মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল বলেন, “কোনো অবস্থাতেই
সেনাবাহিনীকে বিভ্রান্ত করতে পারবেন না। তাদের ঐক্য বিনষ্ট করতে পারবেন
না।
“সেনাবাহিনী গণতন্ত্র ও দেশ রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন
করছে। এখনকার সেনাবাহিনী দেশপ্রেমিক, এরা অগেকার (জিয়া,এরশাদ আমল)
সেনাবাহিনীর মত নয়।”
আগের দিন রাজধানীতে এক আলোচনায় নাগরিক ঐক্যের
আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না সংলাপ নিয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গীর সমালোচনা
করে বলেন,“সংলাপের কোনো বিকল্প নেই। যদি কেউ একে স্কিপওভার করতে চায়, তবে
একটা অসাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে আমন্ত্রণ জানানো হবে।
“উনারা বলছেন, আমরা ওয়ান-ইলেভেনের কুশীলব, কিন্তু তারা এটা করে (সংলাপে না বসে) ওয়ান-ইলেভেনর এর রাস্তা তৈরি করছেন।”
সভায়
অন্যদের মধ্যে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ,
পেশাজীবী কামরুল হাসান, গোলাম কুদ্দুছ প্রমুখ বক্তব্য দেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন