বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকশিনার রবার্ট ডব্লিউ গিবসন সব পক্ষকে তাদের কর্মের পরিণতি সম্পর্কে পরিপূর্ণভাবে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনতে আস্থা গড়ে তোলার জন্যও সব পক্ষের আহ্বান জানান। বুধবার বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার সাথে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের এ কথা বলেন রবার্ট গিবসন।
বিকাল ৪টা ৫৬ মিনিটে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ল্যান্ডক্রুজার গাড়িটি বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে প্রবেশ করে। রবার্ট গিবসন কার্যালয়ের প্রবেশ করে সোজাসুজি দোতলায় বেগম জিয়ার চেম্বারে যান। তারা একান্তে এক ঘন্টা বৈঠক করেন।
বৈঠকে গত ২৪ জানুয়ারি বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর অকাল মৃত্যুর সমবেদনা প্রকাশ, দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সঙ্কট নিরসনের উপায়সহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকের পর ব্রিটিশ হাই কমিশনার রবার্ট গিবসন সাংবাদিকদের বিষয়বস্তু তুলে ধরে বলেন, আরাফাত রহমান কোকোর প্রয়ানে সম্মানিত চেয়ারপারসনকে তার সন্তান হারানোর জন্য সমবেদনা জানিয়েছি। যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় সংকল্পবদ্ধ। এতে এখন ও আগামীতে আমরা অংশীদার। আমাদের মধ্যে বাংলাদেশ চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা হয়েছে।
দেশে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে সকল পকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানিয়ে লিখিত বক্তব্যে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের সকল মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা ব্যাহত হবার ঘটনা চলতে থাকা দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। আমি সকল পকে আহবান জানাই, স্বাভাবিক জীবন যাত্রা ফিরিয়ে আনতে সবাই যেন আস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন যা দেশের বর্তমান অস্থিরতা নিরসন করবে।
রবার্ট গিবসন বলেন, দীর্ঘমেয়াদে আমি প্রত্যাশা করি, এই আস্থা গড়ে তোলার প্রক্রিয়া জোরদার হবে। যা বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সহিংসতা ও বিঘœ সৃষ্টির যে অভ্যাসগত চরিত্রায়ন ঘটেছে, তার বিলুপ্তি ঘটাবে। সকল বৈধ রাজনৈতিক কর্মকান্ড শান্তিপূর্ণভাবে পালনকে অনুমোদন করবে।
দেশে বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি ক্রমাগতভাবে সকল পক্ষকে আহবান জানিয়ে আসছি, তারা যেন তাদের কর্মের পরিণতি সম্পর্কে পরিপূর্ণভাবে ভাবেন। এবং দেশের জাতীয় স্বার্থহানিকর কাজ থেকে বিরত থাকেন।
দুই দেশের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে গিবসন আরো বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় সংকল্পবদ্ধ। বর্তমান এবং আগামীতেও আমরা এর অংশীদার।
খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের ভেতরে প্রধান ফটকে রবার্ট গিবসনকে অভ্যর্থনা জানান, দলের চেয়ারপারসনরের উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান ও বিশেষ সহকারি অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
গত ৩ জানুয়ারি থেকে গুলশানের কার্যালয় অবস্থান করা খালেদা জিয়ার সঙ্গে কোনো বিদেশী কূটনীতিকের এটিই প্রথম সাক্ষাৎ।
৩ জানুয়ারি খালেদা জিয়া এই কার্যালয়ে আসার পর থেকে প্রধান গেইট বন্ধ রাখা হয়েছিলো। গেইট ঘেষে বাইরে রাখা পিকআপ কারটিও সরিয়ে নেয়া হয় হাইকমিশনারের গাড়িটি আসার কয়েক মিনিট আগে। ব্রিটিশ হাইকমিশনার চলে যাওয়ার পর আবার গাড়িটি আগের জায়গায় রাখা হয়। মোট ৩৯ দিন পর বুধবার প্রথম বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের মেইন গেট খোলা হয়।
গত ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর পর দিন ২৫ জানুয়ারি ব্রিটিশ হাইকমিশনার গুলশানের কার্যালয়ে শোকবইতে স্বাক্ষর করতে এলেও ওই সময়ে তার বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়নি।
আপনি কি মনে করেন ব্লগার অভিজিৎ হত্যার পিছনে জামায়াত-শিবিরের হাত আছে?
আমাদের সম্পর্কে
পরিণতি সম্পর্কে দুই দলকেই পরিপূর্ণভাবে ভাবার আহ্বান জানিয়েছে গিবসন।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন