সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতা ইসমাইল হোসেন সোমবার গভীর
রাতে রাজধানীর গুলশান থানায় এ মামলা করেন। এতে বিএনপির মোট ১৪ নেতাকর্মীর
নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান জোনের সহকারী
কমিশনার নুরুল আলম জানান, মামলার এজাহারে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা, সন্ত্রাস
ও বোমা বিস্ফোরণ ঘটানোর অভিযোগ আনা হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ
আসামিদের বিরুদ্ধে।
আসামিদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান
সেলিমা রহমান ও হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার
মাহাবুব হোসেন, দলের যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ, খালেদার প্রেসসচিব
মারুফ কামাল খান, বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বিএনপির সাবেক
সাংসদ দেওয়ান সালাহউদ্দিন, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেত্রী শিরীন সুলতানা
ও ঢাকার সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আবদুল কাইয়ুম ওরফে কাইয়ুম কমিশনারের নামও
রয়েছে।
খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয় ঘেরাওয়ে যাওয়ার পথে নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের মিছিলে হাতবোমা হামলায় অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন।
হরতাল-অবরোধের
প্রতিবাদে খালেদা জিয়াকে ঘেরাওয়ের জন্য শাজাহান খানের নেতৃত্বে
শ্রমিক-কর্মচারী-পেশাজীবী-মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদের একটি মিছিল গুলশানের
২ নম্বর সেকশনের ৮৬ নম্বর সড়কে যাওয়ার পথে মেট্রোপলিটন শপিংমলের ওপর থেকে
৬-৭টি বোমা ফেলা হয়।
এ ঘটনায় অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
ওই
মিছিলে থাকা মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ বলেন, “নৌমন্ত্রী ছিলেন মিছিলের
সামনে সারিতে। তিনি মার্কেট পার হয়ে যাওয়ার পর মিছিলের মাঝামাঝি হামলা
হয়।”
গত ৫ জানুয়ারি সারা দেশে লাগাতার অবরোধ ডেকে খালেদা জিয়া তার
গুলশানের কার্যালয়েই অবস্থান নিয়ে আছেন। অবরোধের মধ্যেই দফায় দফায় হরতাল
করছে বিএনপি ও শরিকরা।
এই কর্মসূচিতে প্রতিদিনই দেশের কোথাও না
কোথাও বোমাবাজি ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে; নাশকতা ও সহিংসতায় মৃত্যুর
সংখ্যা ৮০ ছাড়িয়ে গেছে।
এর মধ্যে নাশকতার অন্তত তিনটি ঘটনায় খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে মামলা হয়েছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন