খেলা ডেস্কঃ এবি ডি ভিলিয়ার্সের টর্নেডোতে প্রথম ইনিংস শেষেই ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকে গিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রোটিয়াস ইনিংসের জবাব দিতে নেমে ডি ভিলিয়ার্সের রানই করতে পারলো না ক্যারিবীয়রা।
ব্যাট হাতে মাত্র ৬৬ বলে ১৬২ রানে অপরাজিত ছিলেন ডি ভিলিয়ার্স। গেইলরা সবাই মিলে করলেন ১৫১ রান। ভিলিয়ার্সের কাছে ১১ আর দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ২৫৭ রানে হারল ক্যারিবীয়রা।
আফ্রিকার দেয়া ৪০৯ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৩৩.১ বলে ১৫১ রানে অলআউট হয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসে এটি দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় বড় জয়। তাদের সবচেয়ে বড় জয় ২৫৮ রানে। ২০১২ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিতেছিল তারা। বিশ্বকাপে ভারতের সাথে যৌথভাবে বড় জয়ে ভাগ বসালো প্রোটিয়াসরা। ২০০৭ বিশ্বকাপে বারমুডার বিপক্ষে ভারতও জিতেছিল ২৫৭ রানে।
আর ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসে পঞ্চম বড় জয়। ২৯০ রানের সবচেয়ে বড় জয়টা নিউজিল্যান্ডের। ২০০৮ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জিতেছিল কিউইরা।
বড় রান তাড়া করতে গেইলের কাছ থেকে ভালো শুরু দরকার ছিল ক্যারিবীয়দের। উল্টো দ্বিতীয় ওভারেই কাইল অ্যাবোটের বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে ফিরেন আগের ম্যাচের ডাবল সেঞ্চুরিয়ান গেইল। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার বদলে চতুর্থ ওভারে স্যামুয়েলসের উইকেটও হারিয়ে বসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ডি ককের হাতে ক্যাচ বানানো এবারের শিকারিও ফিল্যান্ডারের বদলি হিসেবে দলে আসা অ্যাবোট।
তৃতীয় উইকেটে ৩৬ রান যোগ করেন ডোয়াইন স্মিথ-জনাথন কার্টার। তবে কার্টারকে ডি ভিলিয়ার্সে ক্যাচে ফিরিয়ে ফের ধ্বসের শুরু করেন মরনে মরকেল। পরের ওভার করতে এসেই টপাটপ স্মিথ আর সিমন্সকে সাজঘরে ফিরিয়ে দেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত লেগস্পিনার ইমরান তাহির।
১৮তম ওভারে আবারও তাহিরের জোড়া আক্রমণ। স্যামিকে স্ট্যাম্পড করলেন ডি কক আর রাসেলের ক্যাচ গেল অ্যাবোটের হাতে। ৬৩ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বিধ্বস্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলীয় শত রান পার করে রামদিন-হোল্ডারের অস্টম জুটি।
তবে ১০৮ রানের মাথায় নিজের পঞ্চম উইকেট হিসেবে রামদিনকে ফিরিয়ে দেন তাহির। ৪৭ বলে ২২ রান করেন ক্যারিবীয় উইকেটরক্ষক। লংঅনে উড়ন্ত অবস্থায় মিলারের নেয়া ক্যাচটি নিশ্চিতভাবেই চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা। দলের নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন অধিনায়ক হোল্ডার। দলীয় সর্বোচ্চ ৫৬ রান করেন তিনি। ক্যারিবীয়দের ছয় ব্যাটসম্যানই দুই অঙ্কের কোটা স্পর্শ করতে পারেনি। তার মধ্যে তিন ফিরেছেন গোল্ডেন ডাক মেরে।
ইমরান তাহিরের পাঁচ উইকেটের পাশাপাশি দুটি করে উইকেট নেন অ্যাবট ও মরকেল।
এর আগে ডি ভিলিয়ার্সের অতিমানবীয় এক ইনিংসে ৫০ ওভারে ৪০৮ রানের বিশাল স্কোর গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। ডি ভিলিয়ার্স ৬৬ বলে ১৬২ রানে অপরাজিত ছিলেন। এছাড়া হাশিম আমলা ৬৫, ডু প্লেসিস ৬২ ও রাইলি রুশো ৬১ রানের তিনটি অর্ধশত রানের ইনিংস খেলেন।
জোহান্সবার্গের ওয়ান্ডারার্সে পর এবার ডি’ভিলিয়ার্স ঝড় দেখলো সিডনি। বিশ্বকাপের আগে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্রুততম শতক ও অর্ধশতক রেকর্ড গড়েছিলেন এবি। ওই ম্যাচে ১৬ বলে হাফসেঞ্চুরি করার পর সেঞ্চুরি করেছিলেন ৩১ বলে। শেষ পর্যন্ত ৪৪ বলে ১৪৯ রান করেছিলেন প্রোটিয়াস দলনায়ক।
বিশ্বকাপের ইতিহাসের দ্রুততম সেঞ্চুরিটি অল্পের জন্য করতে পারেননি ডি ভিলিয়ার্স। ৬৬ বলে তার ১৬২ রানের অপরাজিত ইনিংস ভেঙে দিয়েছে সব ধরনের ক্যারিবীয় প্রতিরোধ। ৫২ বলে সেঞ্চুরি করা ভিলিয়ার্স পরের পঞ্চাশ রান পূরণ করেন মাত্র ১২ বলে। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে ৬৪ বলে ১৫০ ছোঁয়া প্রথম ব্যাটসম্যান এবি।
ইনিংসের ৪৭তম ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান অধিনায়ক জেসন হোল্ডারের ওভারে ৩৪ রান নেন এবি। আর ইনিংস ও হোল্ডারের শেষ ওভারে তোলেন ৩০ রান।
বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট দক্ষিণ আফ্রিকা আগের ম্যাচে হেরেছিল ভারতের কাছে। সেই হারের আগুনে পুড়তে হলো ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।j1


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন