সর্বশেষ

শ্রীলংকার জয়ে কোয়ার্টারের সপ্ন বাংলাদেশের

ওয়েলিংটনে শ্রীলঙ্কা-ইংল্যান্ড ম্যাচে তীক্ষ্ণ নজর ছিল বাংলাদেশের দর্শকদের। কারণ, এ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার জয় পরোক্ষভাবে বাংলাদেশকে সহায়তা করবে শেষ আটে যাওয়া। লঙ্কানরা বাংলাদেশের দর্শকদের ‘হতাশ’ করেননি। ইংলিশদের রীতিমতো উড়িয়েই দিয়েছেন তাঁরা। থিরিমান্নে-সাঙ্গাকারার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ১৬ বল বাকি থাকতে ইংল্যান্ডকে ৯ উইকেটে হারিয়েছে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের দল।

৩১০ রানের লক্ষ্য। অথচ লক্ষ্যটাকে ‘মামুলি’ বানিয়ে ফেললেন লঙ্কান ব্যাটসম্যানরা। লাহিরু থিরিমান্নে ও তিলকরত্নে দিলশানের উদ্বোধনী জুটিতে এল ১০০ রান। মঈন আলীর বলে ফেরার আগে দিলশানের সংগ্রহ ৪৪ রান। ইংলিশ বোলারদের সাফল্য অতটুকুই। ইনিংসের বাকি সময়টা কুমার সাঙ্গাকারা-থিরিমান্নেময়! দুজনের অবিচ্ছিন্ন দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আসে ২১২ রান। থিরিমান্নে অপরাজিত ছিলেন ১৩৯ রানে। বিশ্বকাপে এটি তাঁর প্রথম ও ওয়ানডে ক্যারিয়ারে চতুর্থ সেঞ্চুরি। সাঙ্গাকারার ব্যাটিং বরাবরই মুগ্ধতাজাগানিয়া। আজও ব্যতিক্রম হয়নি। বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি এল তাঁর ব্যাট থেকে। লঙ্কান বাঁহাতি অপরাজিত ১১৭ রানে। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি সাঙ্গাকারার ২৩তম সেঞ্চুরি।
এর আগে মঈন আলী-ইয়ান বেলের উদ্বোধনী জুটি ভালো শুরু এনে দেয় ইংল্যান্ডকে। দুজনের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৬২ রান। এরপর একটা বিপর্যয়। ৩৯ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেটের পতন। চতুর্থ উইকেটে বিপর্যয় সামাল দেন এউইন মরগান-জো রুট। এ জুটিতে আসে ৬০ রান। তবে ইংল্যান্ডকে বড় ভিত্তি দেয় জেমস টেলর ও জো রুটের পঞ্চম উইকেট জুটি। এই জুটিতে আসে ৯৮ রান। ইংলিশদের পক্ষে সর্বোচ্চ ১২১ রান করেন রুট। ১০৮ বলে করা দুর্দান্ত ইনিংসটি রুট সাজিয়েছিলেন ১৪ চার ও ২ ছয়ে। বিশ্বকাপে ইংলিশদের পক্ষে সবচেয়ে কম বয়সে সেঞ্চুরির নতুন রেকর্ড ২৪ বছর বয়সী রুটের। এর আগের রেকর্ডটি ছিল ডেভিড গাওয়ারের। ১৯৮৩ বিশ্বকাপে এই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৬ বছর বয়সে সেঞ্চুরি করেছিলেন গাওয়ার। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ৩০৯।
বাংলাদেশের জন্য অবশ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল এ ম্যাচটি। কারণ, পয়েন্ট টেবিলের হিসাব অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কার জয়ে ইংল্যান্ড চলে যাবে ‘ব্যাকফুটে’। এখন ৫ মার্চ স্কটল্যান্ড ও ৯ মার্চ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিতলেই বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত। তখন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয় তো আছেই, সঙ্গে আফগানিস্তান—এই দুই জয় নিয়ে ইংল্যান্ডের পয়েন্ট হবে ৪। আর আফগানিস্তান, স্কটল্যান্ড, ইংল্যান্ডকে হারানোর পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে পাওয়া এক পয়েন্টে বাংলাদেশের পয়েন্ট হবে ৭। আর যদি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হেরেই যায়, তবে বাংলাদেশের পয়েন্ট হবে ৫ (স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয়টা ধরে)। সেক্ষেত্রে কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে বাংলাদেশকে জিততে হবে ১৩ মার্চ ​নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স আর ঘরের মাঠের সুবিধার বিচারে কিউইদের হারানো খুব কঠিনই। একইদিনে আফগানদের বিপক্ষে মাঠে নামবে ইংলিশরা। আফগানিস্তান ব্যতিক্রম কিছু করে ফেলবে, সেটি প্রত্যাশা করাও যুক্তিযুক্ত নয়। ফলে বাংলাদেশের সামনে একটি পথই খোলা। বাজে পারফর্ম করা ও নড়বড়ে আত্মবিশ্বাসের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৯ মার্চ ইংল্যান্ডকে হারাতেই হবে মাশরাফি বিন মুর্তজার দলের।
Mt

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

prottoy news24 | Distributed By pnbd24.com | Designed By pnbd24.com

rusm থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.