সর্বশেষ

হয়তো প্রেমের গল্প

লেখা পাঠিয়েছেনঃ
মেঘনাথ সাহা


এই যে শুনছেন??
পিছন থেকে মেয়েলি সুরেলা কন্ঠের এরকম ডাক শুনে যেকোনো ছেলে ফিরে তাকাবে তাকে ডাকছে কিনা দেখার জন্য। কিন্তু অর্ক তাকালোনা। সে জানে তাকে রাস্তার মাঝখানে এভাবে ডাকার মত কেউ নেই।
: এই যে আপনি কি কানে শোনেন না?? ( এবার বেশ কাছে শব্দটা) অর্ক ঘোরার আগেই তার পাশে একটা রিক্সা ব্রেক করলো। অর্ক অবাক হয়ে গেলো রিক্সায় বসা মেয়েটা তাকেই ডাকছে দেখে।
: অর্ক, আমি জানি আপনার কানে সমস্যা নেই। আমার ডাক শুনে রাস্তার সব মানুষ ফিরে তাকালো শুধু আপনি ছাড়া। অর্ক ভেবে পেলোনা সে কি করবে। মানুষ এরকম পরিস্থিতিতে অচেনা মেয়েকেও বেশ চেনার মত ভান করে। কিন্তু সে মেয়েটাকে চেনে। চেনে মানে তার সাথে অনেক আগে আলাপ হয়েছিলো। কিন্তু এখন সে সিদ্ধান্ত নিলো নাচেনার ভান ধরবে।
: কি হলো? এখানে দাড়িয়ে কি চিন্তা করছেন? রিক্সায় উঠুন। অর্ক যে তাকে চেনেনা সেটা বলবে কিনা ভাবতে ভাবতেই সে নিজেকে রিক্সায় আবিষ্কার করলো। রিক্সায় উঠে সে একটু চোখ বড় করে বললো আচ্ছা আপনাকে কি আমি চিনি??
: মিস্টার অর্ক, আমি আপনার চালাকি ভালোই টের পেয়েছি। আমাকে না চেনার ভান করে রিক্সা থেকে নেমে যাওয়ার ফন্দি করেছেন, তাইনা??
অর্ক ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলো। চোখ গুলো আরো বড় হয়ে গেলো। এই মেয়ে কিভাবে তার মনের কথাটা বুঝে গেলো?? আচ্ছা মেয়েটাতো ফোনে তুমি করে বলতো। এখন আপনি করে কেনো বলছে?
: অর্ক সাহেব কি আবার কোনো ফন্দি আটছেন পালানোর?? বেশ ভাবুক মনে হচ্ছে।
এবার অর্ক মেয়েটার দিকে তাকালো। গালের টোল গুলো ভরে গিয়েছে ম্যাচিউরিটির জন্য। আগে খুব সুন্দর টোল পড়তো। সামনাসামনি দেখা হয়েছে শুধু দুবার। তাও একটা আত্মীয়ের বিয়েতে ব্যাস্ততার মধ্যে। অর্ক ভেবেছিলো শুধু সে ই লক্ষ্য করেছিলো। কিন্তু পরে দেখা গেলো মেয়েটাও অর্ককে খেয়াল করেছে। এরপর ফোনে কথা হয়েছে কয়েকবার। কিন্তু এরপর একদিন মেয়েটার ফোন বন্ধ। সিম পরিবর্তন করেছিলো। সেই আত্মীয়া বাড়ি থেকে খোজ পেয়েছিলো মিথিলার বিয়ে ঠিক হয়েছিলো। অর্ক তাই আর যোগাযোগের চেষ্টা করেনি। ও হ্যা মিথিলা মেয়েটার নাম। অর্কের মাথায় এতসব ভাবনা খেলা করে গেলো শুধু মিথিলার দিকে চেয়েই। আগের চেয়ে সুন্দরী হয়েছে এটুকু লক্ষ্য করেই সে আবার চোখ সামনের রাস্তায় দিলো।
: কি হলো?? আমার দিকে ওভাবে কি দেখছেন?
: চেনা অচেনার পার্থক্য করছি। অর্কের জবাব।
: তাই নাকি? তা এখন কি চেনা মনে হচ্ছে?
: উহু, আমি দুই বছর আগের মিথিলাকে চিনিতাম।
: দুই বছর আগেই যদি চিনতেন তাইলে এতদিন কোথায় ছিলেন?
: মোবাইলের যান্ত্রিক কন্ঠের ' সংযোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা' শুনে ক্লান্ত হয়ে গেছিলাম।
: মিস্টার অর্ক, আমি সিম চেঞ্জ করেছিলাম অচেনা কল আটকাতে। আপনি কেনো চেঞ্জ করেছিলেন??
: আমি সিম চেঞ্জ করেছিলাম চেনা থেকে অচেনা হয়ে যাওয়া কল আটকাতে।
অর্ক সেই দুবছর আগে ফোন বারবার বন্ধ পেয়ে অদ্ভুদ অভিমানে নিজের নাম্বারটাই পরিবর্তন করেছিলো যাতে মিথিলা তাকে বিয়ের নিমন্ত্রন করতে না পারে অন্য নাম্বার থেকে। আর মিথিলা?? সে ভাবছে তাদের আরেকটু বেশি চেষ্টা করা উচিত ছিলো যোগাযোগ অবিচ্ছিন্ন রাখার। এই দুই কপোত কপোতির অভিমানী সুরের খোঁচা মারা কথা আরো কিছুক্ষন চলতো। কিন্তু অর্কের বাসার কাছে চলে আসায় মিথিলা তাকে একটা খাম হাতে দিয়ে নামিয়ে দিয়ে বিদায় নিয়ে চলে গেলো। অর্ক রাস্তার সোডিয়াম আলোয় খামটা খুললো।ভিতরে একটা খাম ও একটা কাগজ। সাদা কাগজের টুকরায় লিখা আছে -''দুবছর অনেক খুজেঁছি তোমাকে, পরিবারের ঠিক করা সেই বিয়ে ভেঙ্গেছি তোমার জন্য, কিন্তু আর পারলাম না। আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে।অন্য খামে কার্ড দিলাম। এই চিঠিটা প্রতিদিন নিয়ে বের হই যদি দেখা হয় ভেবে''। সাথে অন্য খামটা একটা বিয়ের ইনভাইটেশন কার্ড। সেটা না খুলে অর্ক হাঁটা দিলো বাসার গলির দিকে। অন্যদিনের তুলনায় আজকে গলিটা একটু বেশি অন্ধকার, বেশি নির্জন মনে হচ্ছে। কি আশ্চর্য আজকে রাস্তার দূরত্বও যেনো বেড়ে গেছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

prottoy news24 | Distributed By pnbd24.com | Designed By pnbd24.com

rusm থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.