আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া মুখে গণতন্ত্রের কথা বলেন, আর তাকিয়ে থাকেন উত্তরপাড়ার দিকে, তারা ক্ষমতায় বসিয়ে দেয় কিনা। যদি ওই দিক থেকে এসে কিছু একটা করে। কিন্তু সেই আশা করে লাভ হবে না, উত্তরপাড়ার দিকে তাকিয়ে লাভ নেই। গতকাল কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, কেউ যদি সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে তার জন্য ক্যাপিটাল পানিশমেন্টের (সর্বোচ্চ শাস্তির) ব্যবস্থা করা হয়েছে সংবিধান সংশোধন করে। যাদের দিকে উনারা তাকিয়ে আছেন তারাও এটা জানেন। জিয়াউর রহমান, এরশাদ, মইনুদ্দিন, ফখরুদ্দীনরা দেখেছেন এর পরিণতি কী হয়। তিনি বলেন, খালেদার দেশের জনগণের ওপর আস্থা নেই। নিজের দেশ বাদ দিয়ে এখন তাকিয়ে আছেন প্রভুদের দিকে। সেখানেও ফ্রড করেছেন। মার্কিন কংগ্রেসম্যানদের স্বাক্ষর জাল করেছেন। ভারতের বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের ফোনালাপ নিয়েও মিথ্যাচার করেছেন। তাদের ধাপ্পাবাজি ভারত ও আমেরিকা বুঝে গেছে। এভাবে তাদের কাছে ধরনা দিয়ে লাভ হবে না। তারা এসে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে না। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি পেট্রলবোমা বন্ধ করতে বলেছেন। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, প্রবীণ সাংবাদিক রাহাত খান, এম এ আজিজ, আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আমিনুল ইসলাম আমিন প্রমুখ। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ’৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যেভাবে তাণ্ডব চালিয়ে গণহত্যা চালিয়েছিল সেই একই কায়দায় খালেদা জিয়া আজ গণহত্যা চালাচ্ছেন। জনগণের এই আন্দোলনের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই। খালেদা জিয়া কীসের আশায় মানুষ হত্যা করছেন এমন প্রশ্ন রেখে তিনি আরও বলেন, জনগণকে হত্যা করে উনি কোন তন্ত্র কায়েম করতে চাচ্ছেন। উনি যেটা করছেন সেটা গণতন্ত্র নয়, জঙ্গিতন্ত্র। কোন দোজখখানা বানাতে চান খালেদা জিয়া? জনগণকে মেরে গণআন্দোলন হয় না। একদিকে আইএসআইর এজেন্টদের নিয়ে কাজ করছেন, অন্যদিকে আইএসের পথ ধরে মানুষ হত্যা করছেন। আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে মারা আর সহ্য করা হবে না। যারা পেট্রলবোমা দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করছে বাংলার মাটিতে একদিন তাদের শাস্তি হবে। ঐক্যবদ্ধ থেকে নাশকতাকারী বোমাবাজ ও এর অর্থদাতা-নির্দেশদাতাদের পুলিশে ধরিয়ে দিতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকে অনেক আশা নিয়ে আছেন, যদি কিছু হয়। এসএসসি পরীক্ষার জন্য হরতাল-অবরোধ প্রত্যাহার করতে খালেদা জিয়াকে আহ্বান না করায় ড. কামাল হোসেন, মাহমুদুর রহমান মান্নার নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা আশা করেছিলাম তারা হয়তো খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে পরীক্ষার কথা বলে হরতাল-অবরোধ প্রত্যাহারের কথা বলবেন। কিন্তু আমরা অবাক হলাম যারা টেলিভিশনের সামনে এত নীতিবাক্য ঝাড়েন, টেলিভিশন ফাটিয়ে দেন তারা কোনো কথা বললেন না। তিনি বলেন, উল্টো তারা হয়তো আশা করে বসেছিলেন, খালেদা জিয়া মানুষ হত্যা করে আর ওদিকে থেকে এসে কিছু একটা করলে তারা পতাকা পাবেন।আইন মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী : পেট্রলবোমা মেরে মানুষ হত্যাকারী এবং হামলার হুকুমদাতাদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক বিচারের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিদেশিদের সমর্থন না পেয়ে বড় নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি-জামায়াত জোট। তারা এখন আরও বেশি মানুষ মারার জন্য গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা করছে। গতকাল তিনি আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন এবং মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়ে আইনমন্ত্রী, সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি নাশকতাকারীদের দমনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।প্রধানমন্ত্রীর নিউজিল্যান্ড সফর বাতিল : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নিউজিল্যান্ড সফর বাতিল করেছেন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে গতকাল জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। আগামী ১১ থেকে ১৪ মার্চ এ সফর হওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর।নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে ১৩ মার্চ হ্যামিল্টনে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেট ম্যাচ দেখা ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কথা ছিল। এটিই নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের কোনো প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জনমানুষের মৃত্যু ও ভোগান্তির কারণে শেষ মুহূর্তে এ সফর বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এর আগেও গত ডিসেম্বরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ইতালি ও যুক্তরাজ্য সফর বাতিল করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যারা এর সঙ্গে জড়িত, যারা হুকুমদাতা, যারা অর্থের জোগানদাতা- তাদের সবাইকে খুঁজে বের করতে হবে। এদের কঠিন বিচার হওয়া দরকার। দেড় মাসের বেশি সময় ধরে হরতাল-অবরোধে নাশকতা চালানো প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ অবস্থা চলতে দেওয়া যায় না। এ অবস্থা থেকে দেশের মানুষকে উদ্ধার করতেই হবে। যারা হাতেনাতে ধরা পড়েছে তাদের বিচার দ্রুত করতে হবে। তিনি বলেন, দেশের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া সরকার হিসেবে আমাদের দায়িত্ব। সে দায়িত্ব আমরা পালন করব। বাংলাদেশের মাটিতে কোনো জঙ্গি-সন্ত্রাসীর স্থান যেন না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার সব থেকে শান্তিপূর্ণ দেশ। সেভাবেই আমরা এই দেশকে গড়ে তুলতে চাই। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর দেশের উন্নতি কত বেশি দ্রুততার সঙ্গে করব- সেদিকে সবচেয়ে বেশি মনোযোগী ছিলাম। প্রতিশোধমূলক মনোভাব নিয়ে তাকাইনি বলেই হয়তো অনেকে রেহাই পেয়ে গেছে। যার জন্যই আজকে তারা এতটা বাড়তে পেরেছে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে যারা আমাদের নারী-শিশুদের হত্যা করেছে, নারীদের ওপর অত্যাচার করেছে, গণহত্যা চালিয়েছে, ঘরবাড়ি পুড়িয়েছে; এখন যারা এই ধরনের অপরাধ সংঘটিত করছে, পেট্রলবোমা দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারছে- এদের মধ্যে কোনো তফাৎ নেই। এরা একই লোক- একই ধরনের, একই মানসিকতা নিয়ে তারা কাজ করছে। মতবিনিময় অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক, আইজিআর খান মো. আবদুল মান্নান ও উপসচিব কাজী আরিফুজ্জামান বক্তব্য রাখেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, কেউ যদি সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে তার জন্য ক্যাপিটাল পানিশমেন্টের (সর্বোচ্চ শাস্তির) ব্যবস্থা করা হয়েছে সংবিধান সংশোধন করে। যাদের দিকে উনারা তাকিয়ে আছেন তারাও এটা জানেন। জিয়াউর রহমান, এরশাদ, মইনুদ্দিন, ফখরুদ্দীনরা দেখেছেন এর পরিণতি কী হয়। তিনি বলেন, খালেদার দেশের জনগণের ওপর আস্থা নেই। নিজের দেশ বাদ দিয়ে এখন তাকিয়ে আছেন প্রভুদের দিকে। সেখানেও ফ্রড করেছেন। মার্কিন কংগ্রেসম্যানদের স্বাক্ষর জাল করেছেন। ভারতের বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের ফোনালাপ নিয়েও মিথ্যাচার করেছেন। তাদের ধাপ্পাবাজি ভারত ও আমেরিকা বুঝে গেছে। এভাবে তাদের কাছে ধরনা দিয়ে লাভ হবে না। তারা এসে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে না। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি পেট্রলবোমা বন্ধ করতে বলেছেন। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, প্রবীণ সাংবাদিক রাহাত খান, এম এ আজিজ, আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আমিনুল ইসলাম আমিন প্রমুখ। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ’৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যেভাবে তাণ্ডব চালিয়ে গণহত্যা চালিয়েছিল সেই একই কায়দায় খালেদা জিয়া আজ গণহত্যা চালাচ্ছেন। জনগণের এই আন্দোলনের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই। খালেদা জিয়া কীসের আশায় মানুষ হত্যা করছেন এমন প্রশ্ন রেখে তিনি আরও বলেন, জনগণকে হত্যা করে উনি কোন তন্ত্র কায়েম করতে চাচ্ছেন। উনি যেটা করছেন সেটা গণতন্ত্র নয়, জঙ্গিতন্ত্র। কোন দোজখখানা বানাতে চান খালেদা জিয়া? জনগণকে মেরে গণআন্দোলন হয় না। একদিকে আইএসআইর এজেন্টদের নিয়ে কাজ করছেন, অন্যদিকে আইএসের পথ ধরে মানুষ হত্যা করছেন। আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে মারা আর সহ্য করা হবে না। যারা পেট্রলবোমা দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করছে বাংলার মাটিতে একদিন তাদের শাস্তি হবে। ঐক্যবদ্ধ থেকে নাশকতাকারী বোমাবাজ ও এর অর্থদাতা-নির্দেশদাতাদের পুলিশে ধরিয়ে দিতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকে অনেক আশা নিয়ে আছেন, যদি কিছু হয়। এসএসসি পরীক্ষার জন্য হরতাল-অবরোধ প্রত্যাহার করতে খালেদা জিয়াকে আহ্বান না করায় ড. কামাল হোসেন, মাহমুদুর রহমান মান্নার নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা আশা করেছিলাম তারা হয়তো খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে পরীক্ষার কথা বলে হরতাল-অবরোধ প্রত্যাহারের কথা বলবেন। কিন্তু আমরা অবাক হলাম যারা টেলিভিশনের সামনে এত নীতিবাক্য ঝাড়েন, টেলিভিশন ফাটিয়ে দেন তারা কোনো কথা বললেন না। তিনি বলেন, উল্টো তারা হয়তো আশা করে বসেছিলেন, খালেদা জিয়া মানুষ হত্যা করে আর ওদিকে থেকে এসে কিছু একটা করলে তারা পতাকা পাবেন।আইন মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী : পেট্রলবোমা মেরে মানুষ হত্যাকারী এবং হামলার হুকুমদাতাদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক বিচারের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিদেশিদের সমর্থন না পেয়ে বড় নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি-জামায়াত জোট। তারা এখন আরও বেশি মানুষ মারার জন্য গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা করছে। গতকাল তিনি আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন এবং মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়ে আইনমন্ত্রী, সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি নাশকতাকারীদের দমনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।প্রধানমন্ত্রীর নিউজিল্যান্ড সফর বাতিল : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নিউজিল্যান্ড সফর বাতিল করেছেন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে গতকাল জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। আগামী ১১ থেকে ১৪ মার্চ এ সফর হওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর।নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে ১৩ মার্চ হ্যামিল্টনে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেট ম্যাচ দেখা ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কথা ছিল। এটিই নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের কোনো প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জনমানুষের মৃত্যু ও ভোগান্তির কারণে শেষ মুহূর্তে এ সফর বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এর আগেও গত ডিসেম্বরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ইতালি ও যুক্তরাজ্য সফর বাতিল করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যারা এর সঙ্গে জড়িত, যারা হুকুমদাতা, যারা অর্থের জোগানদাতা- তাদের সবাইকে খুঁজে বের করতে হবে। এদের কঠিন বিচার হওয়া দরকার। দেড় মাসের বেশি সময় ধরে হরতাল-অবরোধে নাশকতা চালানো প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ অবস্থা চলতে দেওয়া যায় না। এ অবস্থা থেকে দেশের মানুষকে উদ্ধার করতেই হবে। যারা হাতেনাতে ধরা পড়েছে তাদের বিচার দ্রুত করতে হবে। তিনি বলেন, দেশের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া সরকার হিসেবে আমাদের দায়িত্ব। সে দায়িত্ব আমরা পালন করব। বাংলাদেশের মাটিতে কোনো জঙ্গি-সন্ত্রাসীর স্থান যেন না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার সব থেকে শান্তিপূর্ণ দেশ। সেভাবেই আমরা এই দেশকে গড়ে তুলতে চাই। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর দেশের উন্নতি কত বেশি দ্রুততার সঙ্গে করব- সেদিকে সবচেয়ে বেশি মনোযোগী ছিলাম। প্রতিশোধমূলক মনোভাব নিয়ে তাকাইনি বলেই হয়তো অনেকে রেহাই পেয়ে গেছে। যার জন্যই আজকে তারা এতটা বাড়তে পেরেছে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে যারা আমাদের নারী-শিশুদের হত্যা করেছে, নারীদের ওপর অত্যাচার করেছে, গণহত্যা চালিয়েছে, ঘরবাড়ি পুড়িয়েছে; এখন যারা এই ধরনের অপরাধ সংঘটিত করছে, পেট্রলবোমা দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারছে- এদের মধ্যে কোনো তফাৎ নেই। এরা একই লোক- একই ধরনের, একই মানসিকতা নিয়ে তারা কাজ করছে। মতবিনিময় অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক, আইজিআর খান মো. আবদুল মান্নান ও উপসচিব কাজী আরিফুজ্জামান বক্তব্য রাখেন।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন