সর্বশেষ

কী দিলেন কী নিলেন

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ঢাকা সফর শেষে এখন হিসাব-নিকাশ চলছে এই সফর থেকে কী পেলেন তিনি, আর কিইবা দিয়ে গেলেন? সরকারের উপর মহল থেকে শুরু করে ফুটপাতে, অফিস-আদালতে এখন একটাই প্রশ্ন। তবে সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন নগদ কিছু পাওয়া না গেলেও, মমতার সফরে লাভবান হয়েছে দুই পক্ষই। তবে সে ‘লাভের গুড়’ খুব শিগগিরই পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে- তিস্তায় পানি মিললে, কলকাতায় ইলিশ বিকোবে পানির দরে।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এ প্রসঙ্গে গতকাল  বলেন, তিস্তা চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের যে চাওয়া, যে বাস্তবতা এক কথায় সেই বিষয়টি উপলব্ধি করে গেছেন মমতা ব্যানার্জি। এটিই আমাদের বড় অর্জন। এ ছাড়া এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সম্পর্কের নতুন সেতুবন্ধ রচিত হলো।স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে আগামী মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের কথা রয়েছে। সরকারের ধারণা তিস্তা চুক্তি চূড়ান্ত করার ব্যাপারে হয়তো ওই সময়ই কাক্সিক্ষত ঘোষণাটি আসবে ভারতের পক্ষ থেকে। তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমরা আশাবাদী। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের জন্য ‘ভালো পুরস্কার’ নিয়ে আসবেন। এই ‘ভালো পুরস্কার’ যে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি সেটি পরিষ্কার করলেন পরের বক্তব্যে। মন্ত্রী বলেন, তিস্তার পানি বণ্টন ও স্থল সীমান্ত চুক্তি আমাদের সংসদে রেটিফাই করেছি। তাদের (ভারত) সংসদে এ দুটি চুক্তি রেটিফাই করতে হবে। এর মধ্যে আগামীকাল (আজ) ২৩ ফেব্রুয়ারি তাদের সংসদে স্থল সীমান্ত চুক্তির বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে। এরপর তিস্তা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সফরে এলে এ ব্যাপারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে বলেই আশা প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান এই নেতা। আর সেই কাজটি এগিয়ে রাখতেই মমতার এই ঢাকা সফর। তিন দিনের সফরে গত বৃহস্পতিবার মমতা ঢাকা পৌঁছানোর পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক ছাড়াও ব্যবসায়ী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। সংশ্লিষ্টদের প্রস্তাব দিয়েছেন দুই দেশের যৌথ বাণিজ্য কাউন্সিল গঠন এবং যৌথ চলচ্চিত্র তৈরিতে উদ্যোগী হওয়ার। কলকাতায় বঙ্গভবন নির্মাণেও সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। আলোচনা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশের টিভি চ্যানেল প্রদর্শনের ব্যাপারেও। তবে এত কিছুর পরেও বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের দৃষ্টি ছিল তিস্তার ব্যাপারে মমতা কী বলেন। আর কলকাতাবাসীর দৃষ্টি ছিল পদ্মার ইলিশে। তিস্তার পানি নিয়ে বাংলাদেশের এই উদ্বেগের বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী নিজেও বুঝতে পেরেছিলেন। তাই ঢাকায় পা রাখার পরই তিনি তার ওপর আস্থা রাখার আশ্বাস দিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে জানিয়ে দিলেন, স্থল সীমান্ত চুক্তির মতো তিস্তার পানি চুক্তির বিষয়টিও সমাধান হয়ে যাবে। বিগত মহাজোট সরকারের আমলে ভারতের তখনকার প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-এর ঢাকা সফরের সময় সিদ্ধান্ত ছিল তিস্তা চুক্তির। তবে ওই সময় এই মমতার বাধাতেই চুক্তিটি হয়নি। এমন কি মনমোহনের সঙ্গে তার ঢাকা সফরের কথা থাকলেও সেই সফর স্থগিত করেছিলেন তিনি। সেই থেকে ভারতের সঙ্গে তিস্তার পানি বণ্টন ও স্থল সীমান্ত চুক্তি এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে বাংলাদেশের কাছে বড় ‘ফ্যাক্টর’ হিসেবে আভির্ভূত হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূলের এই নেত্রী। অন্যদিকে ২০১২ সাল থেকে ইলিশ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে বাংলাদেশ সরকার। ফলে পশ্চিমবঙ্গবাসীর উৎসব-পার্বণে পদ্মার ইলিশ পাতে জোটছে না। ইলিশের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ভারতের পক্ষ থেকে একাধিকবার কূটনৈতিকভাবে অনুরোধ জানানো হলেও তাতে মন গলেনি বাংলাদেশ পক্ষের। ফলে আপাতদৃষ্টিতে তিস্তার পানিতে ইলিশ না মিললেও দরকষাকষির ক্ষেত্রে দেশের এই জাতীয় মাছও যে একটি বড় ইস্যু হতে পারে সেটিই প্রমাণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার এই কূটনৈতিক চাল কাজেও লেগেছে। কলকাতার ব্যবসায়ীরা ইলিশ না পেয়ে কেন্দ্রীয় সরকার পর্যন্ত ধরনা দিয়েছেন। সফরে এসে শেষ পর্যন্ত মমতাও সেই প্রসঙ্গটি না তুলে পারেননি। তবে এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জবাব যেন তৈরিই ছিল। তিনি স্পষ্টভাবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানিয়ে দিলেন, তিস্তায় পানি দিলে ইলিশ যাবে কলকাতায়। এক্ষেত্রে মমতা যুক্তি দিয়ে যদিও জানালেন, ইলিশ তো পদ্মায়, তিস্তার জলে ইলিশ মেলে না; তবে পরবর্তী পরিস্থিতিতে তিস্তা-ই যে ইলিশের সমাধান সেটি দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায় এরই মধ্যে স্বীকার করে নিয়েছেন। আর তাই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপন উপলক্ষে মমতার এই ঢাকা সফরে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের মানুষের দৃষ্টি ছিল মূলত তিস্তা আর ইলিশ এ দুটি ইস্যুতেই। দুই দেশের গণমাধ্যমে আরও একটি ব্যাপার নিয়ে কথা উঠেছে।বলা হচ্ছে, এ সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে মমতার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার একটা বিষয়ও ছিল। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকেই অভিযোগ রয়েছে, সারদা কাণ্ডের অর্থ বাংলাদেশের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার হয়েছে। যেই সারদা কাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূলের অনেক বড় বড় নেতার নাম উঠে আসছে। এ নিয়ে চাপে ছিলেন মমতা। ঢাকার সঙ্গে কলকাতার ছিল ভুল বোঝাবুঝিও। এই যাত্রায় সেটিও কেটে গেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। সরকারে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ভুল বোঝাবুঝি যা ছিল, সেই জায়গাটা ওভারকাম হয়ে গেছে। এখন শুধু সামনের দিকে তাকানো।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

prottoy news24 | Distributed By pnbd24.com | Designed By pnbd24.com

rusm থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.