সর্বশেষ

পেসারদের লড়াইয়ে জয় পাকিস্তানের

অকল্যান্ড: বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২৯ রানে হারিয়ে অসাধারণ এক জয় পেয়েছে পাকিস্তান। ২৩২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ২০২ রানেই অলআউট হয়ে গেছে প্রোটিয়ারা।

অসাধারণ দৃঢ়তায় ৭৭ রান করে ডি ভিলিয়ার্সের পতন হলে জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায় পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে পরিণত করে ম্যাচটি জিতে নিল পাকিস্তান। এ নিয়ে টানা তৃতীয় জয় পেল দলটি।
দক্ষিণ আফিকার ইনিংসের শুরুতে শূন্য রানে কুইন্টন ডি কক আউট হলেও হাশিম আমলা ও ডুপ্লেসিস ভালোভাবেই ব্যাট চালাতে থাকেন। কিন্তু ৭৪ রানের মধ্যে আমলা, ডুপ্লেসিস ও রুশোকে আউট করে খেলায় ফেরে পাকিস্তান।
পরে ১০২ রানের মধ্যে আরো দুই ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে চাপে পড়ে প্রোটিয়ারা। পরে স্টেইনকে নিয়ে ব্যাটিং করছিলেন ভিলিয়ার্স। কিন্তু দলীয় ১৩৮ রানের মাথায় আবারো উইকেট পতন।
ইরফানের বলে স্টেইনকে তালুবন্দি করেন সরফরাজ। এর পর কে জে অ্যাবোট ১২ রানে আউট হবার পর ৭৭ রানে ডি ভিলিয়ার্সের মূল্যবান উইকেটটিও হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। দলের সংগ্রহ তখন ২০০ রান।
ডি ভিলিয়ার্সকে সরফরাজ আহমেদের তালুবন্দি করে থামিয়ে দেন সোহাইল খান। এতে দক্ষিণ আফ্রিকার বন্দরে পৌঁছার আশা দূর হয়ে যায়।
তার পর ওহাব রিয়াজ ইমরান তাহিরকে আবারো সরফরাজের ক্যাচে পরিণত করলে ২০২ রানে শেষ হয় দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাণান্ত লড়াই।
ম্যাচ সেরা হয়েছেন পাকিস্তানের সরফরাজ আহমেদ। ব্যক্তিগত ৪৯ রান করার পাশাপাশি ৫টি ক্যাচ ধরে পাকিস্তানের জয়ের পেছনে অসাধারণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
তবে অসাধারণ দৃঢ়তায় ব্যাট করে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন ডি ভিলিয়ার্স। কিন্তু এক প্রান্ত আগলে রেখে দুর্দান্তভাবে প্রতিরোধ চালিয়ে গেলেও অপর প্রান্তে নিয়মিত পড়তে থাকে উইকেট।
এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আমলা ৩৮, ডুপ্লেসিস ২৭, ডুমেনি ১২ ও রুশো ৬ রান করেন। পাকিস্তানের হয়ে ইরফান, রাহাত আলী ও ওয়াহাব রিয়াজ দুটি উইকেট নেন।
দুইবার বৃষ্টির বাধায় পড়া ম্যাচে ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৭ ওভারে ২৩২ রান।
পাকিস্তান ইনিংসের ৩৭তম ওভার শেষে বৃষ্টি নামলে প্রায় আধা ঘণ্টা খেলা বন্ধ থাকে। ৪১তম ওভারে আবার বৃষ্টি নামলে ম্যাচের দৈর্ঘ্য নেমে আসে ৪৭ ওভারে।
এর আগে শনিবার অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে বাঁচা-মরার ম্যাচে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ২২২ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান।
কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে গেলে আজকের ম্যাচটা জেতা অনেকটা জরুরি এ লক্ষ্য সামনে নিয়ে ব্যাট করতে নামেন আহমেদ শেহজাদ ও সরফরাজ আহমেদ। উদ্বোধনী জুটিতে ৩০ রান যোগ করার পর শেহজাদ ব্যক্তিগত ১৮ রান করে আউট হয়ে যান। এটিই ছিল এবারের বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটি।
শেহজাদের আউটের পর ক্রিজে আসেন রান খরায় ভুগতে থাকা অভিজ্ঞ ইউনিস খান। ব্যাটিংয়ে নেমে তিনি জ্বলে উঠার ইঙ্গিতও দিচ্ছিলেন। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে সরফরাজকে সঙ্গে নিয়ে দেখেশুনেই ব্যাট করে পাকিস্তানের স্কোরকে সম্মানজনক স্থানে নেয়ার চেষ্টা করেন তিনি।

কিন্তু ইনিংসের ৯২ রানের মাথায় সরফরাজ রানআউট হলে পাকিস্তান কিছুটা চাপে পড়ে। সরফরাজ ৪৯ বলে ৪৯ রান করে রানআউট হন।পরে ব্যক্তিগত ৩৭ রানে ডি ভিলিয়ার্সের বলে রোসোউর তালুবন্দী হন ইউনুসও। মূলত এখান থেকেই শুরু হয় পাকিস্তানের ব্যাটিং ধস।পরে ক্রিজে এসে সুবিধা করতে পারেননি ফর্মহীন উমর আকমল ও শোয়েব মাকসুদও। আকমল ১৩ ও শোয়েব মাকসুদ ৮ রান করে আউট হন।
পরে অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক ও শহীদ আফ্রিদি বিপর্যয় কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করলেও সফল হতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ২২২ রানেই থেমে যায় পাকিস্তানের ইনিংস।
দলের পক্ষে অধিনায়ক মিসবাহ চারটি চারের সাহায্যে সর্বোচ্চ ৫৬ রান করেন। এছাড়া শহীদ আফ্রিদির ২২ রান উল্লেখযোগ্য।
দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে ডেল স্টেইন তিনটি উইকেট নেন। এছাড়া কাইল অ্যাবোট ও মরনে মরকেল দুটি করে উইকেট নেন।
এর আগে টসে জিতে প্রোটিয়া অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্স প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন।
পাকিস্তান একাদশ: আহমেদ শেহজাদ, সরফরাজ আহমেদ, ইউনিস খান, মিসবাহ-উল-হক (অধিনায়ক), উমর আকমল (উইকেটরক্ষক), শহীদ আফ্রিদি, শোয়েব মাকসুদ, ওয়াহাব রিয়াজ, সোহেল খান, রাহাত আলি ও মোহাম্মদ ইরফান।
দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশ: হাশিম আমলা, কুইন্টন ডি কক (উইকেটরক্ষক), ফাফ ডু প্লেসিস,  এবি ডি ভিলিয়ার্স (অধিনায়ক), ডেভিড মিলার, জেপি ডুমিনি, রিলি রুশো, কাইল অ্যাবোট, ডেল স্টেইন, মরনে মরকেল ও ইমরান তাহির।j1
 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

prottoy news24 | Distributed By pnbd24.com | Designed By pnbd24.com

rusm থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.